ডিমে কোলেস্টেরল বাড়ে, কিন্তু তা কি আমাদের জন্য সত্যিই ক্ষতিকর?

ডিম খাওয়ার ব্যাপারে একাধিক মতামত রয়েছে, তবে সুস্থ মানুষের জন্য একটিও ডিম খাওয়া বিপজ্জনক নয়, বরং এটি আমাদের শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। একটি ডিমে প্রায় ৭৫ ক্যালোরি, ৫ গ্রাম ফ্যাট, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৬৭ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ৭০ গ্রাম সোডিয়াম এবং ২১০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল রয়েছে। এই তথ্য শুনে অনেকেই হয়তো ভাবছেন, তাহলে কি ডিম খাওয়ার কারণে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরল বাড়বে?

ডিমের কোলেস্টেরল নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা অনেক পুরনো। তবে নতুন গবেষণায় জানা গেছে, এক সুস্থ ব্যক্তি দৈনিক ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল খেলে তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাই নিয়মিত একটি ডিম খাওয়ার ফলে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর কোনো খারাপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিম শরীরে “ভাল কোলেস্টেরল” তৈরি করে। “খারাপ কোলেস্টেরল” বা এলডিএল মূলত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ট্রান্স ফ্যাট, এবং অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার কারণে বৃদ্ধি পায়, তবে ডিমের মাধ্যমে এই সমস্যা হয় না।

চিকিৎসক এবং এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট দীপ দত্ত তার উপর একটি পরীক্ষা চালান। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে প্রতিদিন ৪টি করে গোটা ডিম খেয়েছিলেন। ১৮ মাস পর নিজের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করার পর তিনি লক্ষ্য করেন, ডিম খাওয়ার পরেও তার কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং তার “ভাল কোলেস্টেরল” বা এইচডিএল বেড়েছে। এমনকি, ডিম খাওয়ার পাশাপাশি তার ওজনও কমেছে, যা তার খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলস্বরূপ।

তবে, ডিমের কুসুমে প্রায় ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যা কিছু মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার পর কোলেস্টেরল বাড়ে না। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডিম খাওয়ার পরে প্রায় ৭০% মানুষের কোলেস্টেরল বাড়েনি। এমনকি যাদের কোলেস্টেরল বেড়েছে, তাদেরও সেটা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়নি।

ডিম খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে যে, গোটা ডিম খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে কোনো সম্পর্কিত নয়। কিছু গবেষণায় এমনও দেখা গেছে যে, ডিম খাওয়ার ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়। তবে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডিম খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাহলে, ডিম খাওয়া কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? অধিকাংশ মানুষের জন্য এটি উদ্বেগের কারণ নয়, তবে যারা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য ডিম খাওয়ার পরিমাণে সচেতন থাকা উচিত।

সূত্র: বিভিন্ন গবেষণা এবং চিকিত্সক দীপ দত্তের পরীক্ষার ফলাফল