হাজার হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় নিমের ব্যবহার চলে আসছে। এর পাতা, ফুল, ফল, ছাল – সবই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে পাকস্থলী ও ত্বকের নানা রোগে নিম কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিমের এই ভেষজ গুণের কারণে আজকাল পশ্চিমা দেশগুলোও এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
নিম শুধু যে ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যবহার হচ্ছে তাই নয়, এখন নিমের প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। এসব প্রসাধনী কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার করা যায়। নিমের প্রসাধনীর মধ্যে রয়েছে তেল, সাবান, ট্যালকম পাউডার, শ্যাম্পু, লোশন, ক্রিম, টুথপেস্ট ইত্যাদি।
এবার জেনে নিন রূপচর্চায় নিমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার:
১. স্কিন টোনার:
নিমপাতা স্কিন টোনার হিসেবে দারুণ কাজ করে। প্রতিদিন রাতে তুলার নরম বল নিমপাতা সেদ্ধ জলে ভিজিয়ে মুখে লাগান। এটি ব্রণ, ক্ষতচিহ্ন এবং মুখের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করবে। একইভাবে চুলে ব্যবহার করলে খুশকি ও অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ হবে।
২. ফেসপ্যাক:
১০টি নিমপাতা এবং একটি ছোট কমলার খোসা অল্প জলে সেদ্ধ করে নিন। এই উপকরণগুলো মসৃণ করে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর এর সঙ্গে অল্প মধু ও দুধ মিশিয়ে নিন। এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিনদিন লাগালে ত্বকের ব্রণ, কালো দাগ ও ক্ষতের গর্ত দূর হবে। মনে রাখবেন, মধু ও নিম উন্নতমানের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
৩. কন্ডিশনার:
নিমপাতা সেদ্ধ করে মধু দিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগান। এটি একটি ভালো কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করবে এবং মাথার খুশকিও দ্রুত দূর করবে।
এছাড়াও, নিমের দুই-তিন ফোঁটা তেলের সঙ্গে জল মিশিয়ে মুখে লাগালে ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং এর ফিরে আসাও প্রতিরোধ করে। নিমের তেল নিয়মিত মাথায় মাখলে উকুন থেকেও সহজে রেহাই পাওয়া যায়।