জন্ম নেওয়ার পরেই কেন কেঁদে ওঠে নবজাতক? জানলে চোখ কপালে উঠবে!

পৃথিবীতে আসার মুহূর্তেই প্রতিটি সুস্থ নবজাতকের কান্নার শব্দ বাবা-মায়ের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে এক স্বর্গীয় আনন্দের অনুভূতি এনে দেয়। জন্মের পর সন্তানের প্রথম কান্নার সেই রেশটুকু দীর্ঘকাল মনে গেঁথে থাকে। তবে কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, জন্ম নেওয়ার ঠিক পরেই একটি শিশু কেন কেঁদে ওঠে? সাধারণ মানুষ একে জীবনের প্রথম অভিব্যক্তি বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে মনে করলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত কারণ। প্রসূতি বিশেষজ্ঞ এবং শিশু চিকিৎসকদের মতে, নবজাতকের এই প্রথম কান্না তার বেঁচে থাকার এবং সুস্থভাবে পৃথিবীর আলো দেখার প্রথম ও প্রধান শর্ত।

মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশু সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পরিবেশে অবস্থান করে। গর্ভকালীন নয় মাস ধরে মায়ের শরীরের প্লাসেন্টা বা অমরা জারের মাধ্যমেই তার ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এই সময়ে শিশুর ফুসফুস জলীয় পদার্থ বা অ্যামনিওটিক ফ্লুইডে পূর্ণ থাকে এবং তা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় কাজ করে। কিন্তু যখনই শিশু মাতৃগর্ভ থেকে বাইরে উন্মুক্ত বাতাসে এসে পৌঁছায়, তখন তার শরীরের ভেতরের শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন ঘটে। মায়ের শরীরের সঙ্গে তার সরাসরি সংযোগ ছিন্ন হওয়ার কারণে তাকে তৎক্ষণাৎ নিজে থেকে শ্বাসপ্রশ্বাস শুরু করতে হয়।

নবজাতক জন্ম নেওয়ার পরপরই যখন তার ফুসফুস প্রথমবারের মতো বাইরের বাতাসে উন্মুক্ত হয়, তখন ভেতরের জমে থাকা তরল পদার্থ দূর করার জন্য এবং ফুসফুসের রুদ্ধদ্বার পথ খুলে ফেলার জন্য প্রচণ্ড চাপের প্রয়োজন হয়। শিশু যখন উচ্চস্বরে কেঁদে ওঠে, তখন তার বুকের পেশিগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয় এবং ফুসফুস সংকুচিত ও প্রসারিত হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায়। এই শক্তিশালী ক্রিয়ার ফলেই ফুসফুসের ভেতরে প্রথমবার বাতাস প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তে অক্সিজেনের সরবরাহ স্বাভাবিক মাত্রায় সচল হয়।

এছাড়াও, চিকিৎসকরা জানান যে জন্মের সময় পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা, তীব্র আলো এবং কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের আচমকা পরিবর্তনের কারণে শিশু এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক শকের সম্মুখীন হয়। এই অপ্রত্যাশিত আকস্মিকতা থেকে উৎপন্ন স্বাভাবিক স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ ঘটে কান্নার মাধ্যমে। তাই নবজাতকের প্রথম কান্না কেবল আনন্দের বার্তা নয়, বরং এটি তার সুস্থ জীবনযাত্রা এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার এক অবধারিত জৈবিক সংকেত।