ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে ‘কনজেক্টিভাইটিস’ বা সাধারণ মানুষের ভাষায় ‘চোখ ওঠা’। যাকে গ্রামবাংলায় অনেকে ‘জয় বাংলা’ রোগও বলে থাকেন। আর এই রোগ ঘিরেই আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে এক অদ্ভুত ধারণা— “চোখ ওঠা ব্যক্তির চোখের দিকে তাকালেই সুস্থ মানুষেরও চোখ ওঠে।” কিন্তু এই কথাটি কি আদৌ সত্যি, নাকি নিছকই কুসংস্কার? চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?
তাকালে কি সত্যিই রোগ ছড়ায়?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, চোখ ওঠা ব্যক্তির দিকে তাকালে সুস্থ ব্যক্তির চোখ ওঠার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা বা মিথ। কারণ, চোখ ওঠা রোগটি কোনো আলোক তরঙ্গ বা দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে ছড়ায় না। এটি মূলত ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ঘটে।
তাহলে রোগটি ছড়ায় কীভাবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কনজেক্টিভাইটিস বা চোখ ওঠা একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, তবে তা দৃষ্টির মাধ্যমে নয়, ছড়ায় সংস্পর্শের মাধ্যমে।
আক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার চোখে হাত দেন এবং সেই হাত দিয়ে কোনো বস্তু (যেমন: তোয়ালে, রুমাল, দরজার হ্যান্ডেল, বা রিমোট) স্পর্শ করেন, তবে সেখানে জীবাণু লেগে থাকে।
কোনো সুস্থ ব্যক্তি যদি সেই একই বস্তু স্পর্শ করার পর নিজের চোখে হাত দেন, তবেই তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
চোখ লাল হয়ে গেলে কী করবেন?
যদি আপনার বা পরিচিত কারও চোখ ওঠে, তবে ভয় না পেয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
কালো চশমা ব্যবহার: চশমা পরলে সরাসরি আলো থেকে চোখ রক্ষা পায় এবং বারবার চোখে হাত দেওয়ার প্রবণতা কমে। তবে মনে রাখবেন, চশমা অন্যকে সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য নয়, বরং নিজের আরামের জন্য।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, বালিশের কভার বা রুমাল আলাদা রাখা জরুরি।
চোখ ঘষবেন না: চোখে চুলকানি হলেও বারবার হাত দেবেন না। পরিষ্কার জলে চোখ ধুয়ে নিতে পারেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: চোখ অতিরিক্ত ফুলে গেলে বা পুঁজ জমলে নিজে থেকে কোনো ড্রপ ব্যবহার না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
উপসংহার:
পরিশেষে, চোখ ওঠা ব্যক্তির দিকে তাকালে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং তাকে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মানতে সাহায্য করুন। আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই হোক এই রোগের বিরুদ্ধে প্রধান অস্ত্র।





