চুলের যত্নে আদা! চুল পড়া থেকে খুশকি মুক্তি, জানুন জাদুকরী উপকারিতা

চুলের যত্নে আদা! চুল পড়া থেকে খুশকি মুক্তি, জানুন জাদুকরী উপকারিতা
চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য উন্নতিতে আদার জুড়ি মেলা ভার। এই প্রাকৃতিক উপাদানটির ভেতরে থাকা একাধিক উপকারী উপাদান চুলের গোড়ায় পুষ্টির অভাব পূরণ করার পাশাপাশি চুলকে এতটাই মজবুত করে তোলে যে নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক চুলের যত্নে আদার কিছু অসাধারণ গুণাগুণ:

১. চুল পড়ার হার কমায়:

মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে আজ থেকেই চুলের পরিচর্যায় আদা ব্যবহার করা শুরু করুন। দেখবেন চুল পড়ার হার তো কমবেই, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে চোখে পড়ার মতো। আসলে আদার ভেতরে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান হেয়ার ফলিকলের ভেতরে পুষ্টির অভাব দূর করে। ফলে চুল স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং চুল পড়ার আশঙ্কা কমে। এক্ষেত্রে ১ চামচ আদার পেস্টের সঙ্গে ১ চামচ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মাসাজ করতে হবে। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার এভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই উপকার পাবেন।

২. খুশকির প্রকোপ কমায়:

আদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য, যা স্ক্যাল্পে সংক্রমণের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হারানো আর্দ্রতাও ফিরিয়ে আনে। ফলে খুশকির সমস্যা কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে স্ক্যাল্পে কোনো ধরনের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে ২ চামচ আদার পেস্টের সঙ্গে ৩ চামচ তিল তেল এবং হাফ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর সেই পেস্টটি ভার করে স্ক্যাল্পে এবং চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কম করে দুবার এই পেস্ট ব্যবহার করলে দেখবেন খুশকির মতো ত্বকের রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

৩. চুলকে আর্দ্র রাখে:

পরিবেশ দূষণের কারণে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে। বিশেষত চুলের ভেতরে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। আর রুক্ষ চুলের আয়ু বেশি দিন হয় না, ফলে চুল ফাঁকা হতে সময় লাগে না। এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহে কম করে ২-৩ দিন আদার পেস্ট চুলে লাগাতে শুরু করুন। এমনটা করলে দেখবেন স্ক্যাল্প এবং চুলের ভেতরে আর্দ্রতা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে চুল পড়ার হার তো কমবেই, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

৪. চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আদার ভেতরে থাকা জিঞ্জেরল নামক উপাদানটি স্ক্যাল্পের ভেতরে প্রবেশ করার পর চুলের গোড়ায় রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। আর চুল সুন্দর হয়ে উঠলে দেখতেও ভালো লাগে। সপ্তাহে কম করে ৩-৪ দিন আদার পেস্ট চুলের গোড়ায় লাগালে উপকার মিলবে।

৫. চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে:

আদার ভেতরে থাকা একাধিক উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড, যেমন লিনোলিক অ্যাসিড, চুলকে যেমন শক্ত করে, তেমনি পুষ্টির অভাব দূর করার মাধ্যমে চুলকে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে ১ চামচ আদার পেস্টের সঙ্গে হাফ কাপ শসা, ১ চামচ নারকেল তেল এবং ১ চামচ তুলসি তেল মিশিয়ে বানানো পেস্ট সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৬. চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে কাজে আসে:

২ চামচ আদার পেস্টের সঙ্গে পরিমাণ মতো পেঁয়াজের পেস্ট মিশিয়ে নিয়ে নিয়মিত চুলে লাগালে স্ক্যাল্পের ভেতরে সালফারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে অন্যান্য উপকারী উপাদানের ঘাটতিও দূর হয়। ফলে চুলের বৃদ্ধি দারুণভাবে হতে থাকে। অল্প বয়সেই যদি চুল পাতলা হয়ে যায়, তাহলে এই ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

৭. আদা এবং রসুনের পেস্ট:

আদা এবং রসুনের পেস্ট শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, চুলের পরিচর্যাতেও এটি অসাধারণ কাজ করে। এই দুটি উপাদানের ভেতরে থাকা সালফার এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান একদিকে যেমন চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে, তেমনি চুলের ক্ষতি মেরামত করে সৌন্দর্য বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। হেয়ার মাস্ক বানানোর জন্য ১ চামচ আদার পেস্টের সঙ্গে ২ চামচ মধু, ২ চামচ নারকেল তেল এবং ৩ কোয়া রসুন থেঁতো করে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে কম করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

চুলের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য রক্ষায় আদার এই প্রাকৃতিক গুণাগুণ সত্যিই অনবদ্য। তাই বাজারের রাসায়নিক পণ্যের পরিবর্তে এই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে দেখুন, নিশ্চিত উপকার পাবেন।