ঘুম থেকে উঠেই মুখ-গলা শুকিয়ে কাঠ? ‘জেরোস্টোমিয়া’ রোগের ৫টি কারণ জেনে নিন, যা কথা বলাও থামিয়ে দিতে পারে!

ঘুম থেকে উঠে আপনার মুখ ও গলা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং এইটা প্রতিদিনের ঘটনা? এমন যদি হয়, তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রথমে মুখ শুকানোর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এই রোগের মেডিক্যাল টার্ম হলো জেরোস্টোমিয়া (Xerostomia)। মুখের লালার (Saliva) অভাবে এই সমস্যা হয়। একসময় এই রোগ ঢোক গিলতে এবং কথা বলতেও সমস্যার সৃষ্টি করে। এই রোগের পিছনে কিছু কারণ আছে, যেগুলো প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে:
১. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ শুষ্ক মুখের কারণ হতে পারে। উদ্বেগ (Anxiety), হতাশা (Depression), ব্যথা এবং পেশী শিথিলতার (Muscle Relaxation) জন্য যেসব ওষুধ খাওয়া হয়, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমন হতে পারে। সকালে উঠে গলা মুখ শুকিয়ে গেলে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন এবং আপনার ওষুধের তালিকা পরিবর্তন করা যায় কিনা, তা জেনে নিন।
২. মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া: মুখ থেকে নিঃশ্বাস নেওয়া, বিশেষত যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকেন, হাইপোস্যালিভেশনের (Hypo-salivation বা লালা কম হওয়ার) অন্যতম সাধারণ কারণ। আপনি যদি এই দলের মানুষ হন, তবে অবশ্যই এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করুন এবং কেন আপনি মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হন (যেমন নাক বন্ধ থাকা), তার কারণ খুঁজে বের করে চিকিৎসা করুন।
৩. ধূমপান এবং অ্যালকোহল পান: ধূমপান কেবল ফুসফুসের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, এটি লালা উৎপাদন কমায়, যা মুখ শুকনো হওয়ার কারণ হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের মধ্যে শতকরা ৩৯ ভাগ মানুষ শুকনো মুখের সমস্যায় ভুগছেন। অ্যালকোহলও শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে এই সমস্যা বাড়ায়।
৪. জল শূন্যতা (Dehydration): পর্যাপ্ত জল না খেলে আপনার শরীর জল শূন্য হয়ে যাবে। এ থেকে পরে মুখ শুকিয়ে যাবে। এটিই শুষ্ক মুখের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এজন্য অবশ্যই প্রতিদিন আট গ্লাস জল খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন।
৫. ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসের অন্যতম লক্ষণ হলো মুখ শুকিয়ে যাওয়া। আপনি যদি দেখেন প্রায়ই আপনার এ সমস্যা হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ডায়বেটিস পরীক্ষা করুন। কারণ অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা মুখের লালা কমিয়ে দিতে পারে।