রাতের অন্ধকারে সমবায় ব্যাঙ্কে ঢুকে এ কী কান্ড! সিঙ্গুরে ধরা পড়ে চোর স্লোগানে জেরবার তৃণমূল নেতা!

রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সমবায় ব্যাঙ্ক খুলে গোপন সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ডিলিট করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম হুলস্থুল ও উত্তেজনা ছড়াল হুগলির সিঙ্গুরে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষমেশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন গোবিন্দপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য কাজী তোসাদ্দেক হোসেন।

ঘটনাকে ঘিরে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধৃত নেতাকে উদ্দেশ্য করে ‘তৃণমূলের বড় চোর যাচ্ছে’ বলে তীব্র কটাক্ষ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন উপস্থিত উত্তেজিত জনতা।

মধ্যরাতে ব্যাঙ্কে রহস্যময় প্রবেশ ও বিক্ষোভ: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত দশটা নাগাদ সিঙ্গুরের গোবিন্দপুর সমবায় ব্যাঙ্কের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন তৎকালীন সম্পাদক কাজী তোসাদ্দেক হোসেন। এত রাতে বন্ধ ব্যাঙ্ক খোলার খবর মুহূর্তের মধ্যে জানাজানি হতেই সেখানে জড়ো হন বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

তাঁরা অভিযোগ তোলেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে ও অন্যায়ভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট বা লোপাট করতেই রাতে ব্যাঙ্কে ঢুকেছিলেন ওই শাসকনেতা। এর পরেই তাঁকে ঘরের ভেতর থেকে বের করে এনে ঘিঞ্জি এলাকায় শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ ও চোর চোর স্লোগান।

ম্যানেজারের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও চাঞ্চল্যকর মোড়: এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে সমবায়ের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সত্যজিৎ রায়ের রহস্যজনক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা। মৃত পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ তারিখ সমবায়ের এক বৈঠকে ডেকে সত্যজিৎবাবুকে চরম অপমান করা হয় এবং তাঁর অবসরকালীন প্রাপ্য বকেয়া টাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মঘাতী হন। এই ঘটনায় ধৃত তোসাদ্দেক হোসেনসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে সিঙ্গুর থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) জানান মৃতের স্ত্রী।

বিজেপির সিঙ্গুর বিধানসভা যুব মোর্চার আহ্বায়ক পীযূষ চৌধুরীর দাবি, “১৩ তারিখের ওই বিতর্কিত বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ ও হিসাব-নিকাশের যাবতীয় প্রমাণ লোপাট করতেই রাতে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। আমরা এই বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে সঠিক বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

অভিযুক্তের সাফাই ও পুলিশের পদক্ষেপ: যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত সমবায় সম্পাদক কাজী তোসাদ্দেক হোসেন। তাঁর দাবি, “ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ক্যামেরা খারাপ ছিল। রাতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমার ওপর দায় আসবে ভেবেই কেবল ক্যামেরা ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করতে গিয়েছিলাম।”

তবে পুলিশ এই সাফাইয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে সমবায় সম্পাদক কাজী তোসাদ্দেক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কী কী আর্থিক অনিয়ম ও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুরো বিষয়ের তদন্ত শুরু করেছে সিঙ্গুর থানার পুলিশ।