ওজন কমাতে গ্রিন টির উপকারিতা অনেক। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং এতে থাকা প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীর ও ত্বকের জন্য খুবই ভালো। তাই স্বাস্থ্য সচেতনরা অনেকেই দিন শুরু করেন গ্রিন টি পান করে।
তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন, খালি পেটে গ্রিন টি পান করা ভালো না-কি খারাপ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জেনে নিন কীভাবে—
❌ খালি পেটে গ্রিন টি পানে ৫টি নেতিবাচক প্রভাব
১. পেটে অ্যাসিড বৃদ্ধি ও হজমের সমস্যা: খালি পেটে গ্রিন টি খেলে পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বমিভাব হতে পারে। গ্রিন টিতে ট্যানিন রয়েছে, যা পেটে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। ফলে পেট ব্যথা ও বমিভাব সৃষ্টি হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে।
২. পেপটিক আলসার ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অবনতি: পেপটিক আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সে (Acid Reflux) আক্রান্ত রোগীদের খালি পেটে গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। এতে তাদের অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে।
৩. রক্ত পাতলা হওয়ার ঝুঁকি: খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে তা সরাসরি রক্তকে প্রভাবিত করে। এতে রক্ত জমাট বাঁধায় কাজ করে যেসব প্রোটিন, সেগুলোর পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে রক্ত পাতলা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
৪. আয়রনের অভাব (রক্তাল্পতা): গ্রিন টি শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এজন্য রক্তাল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের উচিত গ্রিন টি পান না করা। তবে কেউ যদি এটি গ্রহণ করতে চান, তবে অবশ্যই খালি পেটে নয়।
৫. হার্ট রেট ও রক্তচাপ বৃদ্ধি: গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলোকে উদ্দীপিত করে। যা কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। ফলে হার্ট রেট এবং রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
💡 গ্রিন টি পানের সঠিক সময়
সুস্থ থাকতে প্রতিদিন এক কাপ হলেও গ্রিন টি পান করা জরুরি, তবে অবশ্যই সঠিক সময়ে:
১. সকালের সেরা সময়: সকালে গ্রিন টি পান করা ভালো, তবে নাস্তার পর। ২. ওয়ার্কআউটের আগে: শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউটের আগে গ্রিন টি পান করতে পারেন। ৩. সতর্কতা: অবশ্যই খালি পেটে পান করা থেকে বিরত থাকুন।