কলেরার প্রকোপ! জানুন লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

বর্ষাকাল মানেই পরিবেশে আর্দ্রতা আর সেই সঙ্গে বাড়ে মশাবাহিত ও জলবাহিত রোগের ঝুঁকি। ঠিক তেমনই এই সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে কলেরা রোগও। ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) নামক এক ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগের সৃষ্টি হয়।
পানীয় জলের মাধ্যমেই কলেরা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির বর্জ্য জলবাহিত হয়ে সহজেই মিশে যায় পানীয় জলে এবং বিস্তার ঘটায় কলেরার জীবাণুর। অপরিষ্কার পরিবেশ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই রোগের ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে।
কলেরার লক্ষণগুলো কী কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, কলেরা রোগের বেশ কিছু সুস্পষ্ট উপসর্গ রয়েছে। এগুলো হলো:
তীব্র জ্বর
দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
আকস্মিক ও তীব্র জলশূন্যতা (Dehydration)
মাথা ঘোরা
বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
হজমের সমস্যা
নিম্ন রক্তচাপ (Low Blood Pressure)
শরীরে একবার এই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে রোগের উপসর্গ দেখা দিতে ১২ ঘণ্টা থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই জীবাণু এক ধরনের এন্টেরোটক্সিন (Enterotoxin) তৈরি করে, যা শরীরে মারাত্মক জলশূন্যতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। সময় মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু না করালে, রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কলেরা প্রতিরোধের উপায়:
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কলেরা থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই পানীয় জলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। জল ফুটিয়ে পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। এছাড়াও, বর্ষাকালে বাইরের খাবার, কাটা ফল এবং দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।
কলেরা হলে কী করবেন?
কলেরার লক্ষণ দেখা দিলে কোনো রকম বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল এবং ‘ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন’ বা ‘ওআরএস’ খেতে হবে। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধও দিতে পারেন।
বর্ষাকালে কলেরা একটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে সঠিক সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই পানীয় জলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করুন, বাইরের খাবার পরিহার করুন এবং পরিচ্ছন্ন থাকুন। অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।