একটাই জীবন, কিন্তু বই আপনাকে দেবে হাজার জীবন! জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু ‘বই’ পড়ার ১২টি শক্তিশালী কারণ!

জীবনে একটি ভালো বই পড়লেই বোঝা সম্ভব, কেন বই পড়া উচিৎ ও প্রয়োজন। বই পড়ার ফলে যে ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করে, তা তুলনাহীন। বই শুধুই কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, একটি বই যেন একটি নতুন পৃথিবী। ভালো অভ্যাসের মাঝে বই পড়ার অভ্যাসটি অবশ্যই প্রথম সারিতেই থাকবে। যে চমৎকার ১২টি কারণে সবার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে:
বই পড়ার অভ্যাসের ফলে মস্তিষ্ক সবসময় উদ্দীপ্ত থাকে, যার ফলে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এটি মস্তিষ্কের পেশীকে অ্যাকটিভ রাখতে সাহায্য করে।
২. মানসিক চাপ কমায়:
বই পড়া খোলা কোন স্থানে হাঁটা কিংবা পছন্দের কোনো গান শোনার চাইতেও মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতে বেশি উপকারী।
৩. স্মৃতিশক্তি প্রখর করে:
প্রতিটি নতুন বই পড়ার সময় চরিত্র, গল্প, ইতিহাস, সাব-প্লট সহ অনেক কিছু মনে রাখতে হয়। একইসঙ্গে অনেককিছু মনে রাখার এই অভ্যাসের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি প্রখর হতে থাকে।
৪. বৃদ্ধি পায় কল্পনাশক্তি:
বইয়ের কাল্পনিক চরিত্র ও ঘটনার ভেতরে ডুবে যেতে চাইলে পাঠককে নিজের একটি কাল্পনিক পৃথিবী গড়ে নিতে হয়। এই অভ্যাসের ফলে ভালো কল্পনাশক্তির অধিকারী হওয়া যায়।
৫. যৌক্তিক চিন্তায় দক্ষ হওয়া যায়:
রহস্য কিংবা থ্রিলার কাহিনীর মতো বই নানান আঙ্গিক থেকে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাসের ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতে যৌক্তিকভাবে চিন্তা করার চর্চাটি বজায় থাকে।
৬. মনোযোগ বৃদ্ধি করে:
মাল্টিটাস্কিং এর ফলে মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা কমে যায়। কিন্তু বই পড়ার সময় অন্যমনস্ক হলে কাহিনীর ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস মনোযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
৭. রাতে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে:
রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়ার ফলে নার্ভ ও মন শান্ত হয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মাঝেই ঘুম চলে আসে। অন্যদিকে মোবাইল স্ক্রল করা ঘুম নষ্ট করে।
৮. অনুপ্রাণিত হওয়া যায়:
জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয়। বইয়ের চমৎকার গল্প, কাল্পনিক গল্পগাঁথা কিংবা আত্মজীবনীমূলক বই পড়লে নিজের ভুলগুলো চেনা সম্ভব হয় এবং জীবনের উদ্দেশ্যও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
৯. আপনাকে করবে সহমর্মিতাপূর্ণ:
নেদারল্যান্ডের গবেষণা থেকে দেখা গেছে, বইপড়ুয়ারা কাল্পনিক চরিত্র ও গল্পের মাধ্যমে খুব সহজেই আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন এবং অন্যের দুঃখ-কষ্টকে সহজেই অনুধাবন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
১০. বৃদ্ধি পায় সৃজনশীলতা:
বই পড়ার ফলে সৃজনশীলতার ডালপালা মনে মতো মেলা যায়। বইয়ের কাল্পনিক জগতকে নিজের মতো করে গড়ে নেওয়া ও চরিত্রগুলোকে নিজের মতো সাজিয়ে নেওয়ার ফলে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
১১. দূরে থাকা ডিজিটাল জগত থেকে:
টিভি, কম্পিউটার, মোবাইলের মতো গ্যাজেট ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব চোখ, মস্তিষ্ক ও স্বাস্থ্যের উপর পড়ে। অন্যদিকে বই পড়ার ফলে স্বাস্থ্যের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব একেবারেই দেখা যায় না।
১২. সিনেমার চাইতে বই উত্তম:
সিনেমার চাইতে বইয়ে হাজারগুণ বিনোদনপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর গল্প থাকে। একটি বই পড়ে যতটা ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করে, অনেক সিনেমাতেই তেমনটা হয় না।
উপসংহার: বই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলার সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত নয়।