অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার: শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে!

সামান্য মাথাব্যথা বা জ্বর জ্বর ভাব হলেই আমরা অনেকেই কিছু না ভেবেই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলি। শুধু জ্বর বা মাথাব্যথা নয়, যেকোনো অসুখেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রবণতা এখন খুব সাধারণ। অসুখ সারাতে ওষুধ খাওয়া স্বাভাবিক হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসই ডেকে আনছে বড় বিপদ, বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকদের জন্য।
অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও শিশুদের স্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার নবজাতক ও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। সামান্য জ্বর, পেটের অসুখ বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় শিশুদের সুস্থ করতে চিকিৎসকরা অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কিন্তু এই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারই শিশুদের ভবিষ্যৎকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক শিশুদের সমস্যায় ফেলছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া শুধুমাত্র হজমেই সাহায্য করে না, বরং অ্যাজমা, অ্যালার্জি এবং পেটের অসুখের মতো বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি শিশুর দেহেই তৈরি হয় নিজস্ব ব্যাকটেরিয়ার সেট, যাকে মাইক্রোবায়োম বলা হয়। জীবনের প্রথম দুই-তিন বছর এই মাইক্রোবায়োম গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু গবেষণা বলছে, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব এই মাইক্রোবায়োম গঠনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
‘বিপদ অ্যান্টিবায়োটিকে!’
গবেষকরা আরও জানান, অ্যান্টিবায়োটিকের বারবার ব্যবহার ব্যাকটেরিয়ার গঠনে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলস্বরূপ, শিশুর দেহে সুগঠিত মাইক্রোবায়োম তৈরি হয় না। এতে শিশুদের দেহের প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়াগুলো স্থিতিশীল হতে পারে না, যার ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
সিজারিয়ান বেবিদেরও বিপদ!
গবেষকদের দাবি, সিজার করে জন্ম নেওয়া নবজাতকরাও এই বিপদসীমার মধ্যে রয়েছে। সিজারিয়ান বেবিদের অন্ত্রে রোগ প্রতিরোধকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ এমনিতেই কম থাকে। এই শিশুদের ওপর অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব আরও খারাপ হতে পারে। তাই গবেষকরা বলছেন, শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, জীবনের প্রথম তিন বছর অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার একেবারেই ভালো নয় এবং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর।