অলৌকিক পাতা সজিনা! কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, দূর করবে বহু রোগ

অলৌকিক পাতা সজিনা! কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, দূর করবে বহু রোগ
কলকাতা, ১৫ মে ২০২৫: পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব হিসেবে খ্যাত সজিনা বা সাজনা গাছের পাতাকে বিজ্ঞানীরা আখ্যা দিয়েছেন ‘অলৌকিক পাতা’ নামে। গবেষকরা এই পাতাকে নিউট্রিশন্স সুপার ফুড হিসেবেও বিবেচনা করেন। শাক হিসেবে ব্যবহৃত সজিনা পাতায় ভিটামিন এ-এর এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। শুধু পাতাই নয়, সজিনা গাছের ফলও বিপুল পরিমাণে পুষ্টিগুণে ভরপুর।
এইসব পুষ্টি উপাদান একসঙ্গে থাকার কারণেই সজিনার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি দুটোই পাওয়া যায়। প্রতি গ্রাম সজিনা পাতায় একটি কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি বিদ্যমান।
শুধু তাই নয়, দুধের চেয়ে ৪ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম ও দ্বিগুণ প্রোটিন, গাজরের চেয়ে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন এ এবং কলার চেয়ে ৩ গুণ বেশি পটাশিয়াম পাওয়া যায় এই পাতায়। ফলে এটি অন্ধত্ব ও রক্তস্বল্পতাসহ বিভিন্ন ভিটামিন ঘাটতিজনিত রোগের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
সজিনায় প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক এবং পালং শাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি আয়রন বিদ্যমান, যা অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও, সজিনা মানবদেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
আমাদের শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ প্রোটিন, যার মূল গঠনকারী উপাদান হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড। শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেটাবলিজম এবং অন্যান্য কার্যাবলী সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য অ্যামাইনো অ্যাসিড অপরিহার্য। সজিনার বিশেষত্ব হলো, মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ৯টি অ্যামাইনো অ্যাসিডই এর মধ্যে বিদ্যমান, যা খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়।
এই অলৌকিক পাতাটি শরীরের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যার ফলে ডায়াবেটিসের মতো কঠিন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হয়। নিয়মিত দৈনিক সেবনে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং ‘ইমিউনিটি স্টিমুল্যান্ট’ হওয়ার কারণে এইডস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সজিনা হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পুষ্টিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে।
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য ব্যায়ামের পাশাপাশি সজিনা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
পাতা থেকে তৈরি এক টেবিল চামচ সজিনার পাউডারে ১৪ শতাংশ প্রোটিন, ৪০ শতাংশ ক্যালসিয়াম এবং ২৩ শতাংশ আয়রন থাকে, যা এক থেকে তিন বছরের শিশুর সঠিক বিকাশে সহায়ক। গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোকালীন সময়ে ৬ টেবিল চামচ সজিনার পাউডার একজন মায়ের প্রতিদিনের আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
সজিনাতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনিকে সুস্থ রাখতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এই আশ্চর্য পাতায় প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। এছাড়াও, এতে ৩৬টির মতো অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করতে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্য উপযোগী সজিনার পুষ্টি উপাদান:
জলীয় অংশ: ৮৩.৩ গ্রাম
খনিজ: ১.৯ গ্রাম
আঁশ: ৪.৮ গ্রাম
খাদ্যশক্তি: ৬০ কিলো-ক্যালোরি
প্রোটিন: ৩.২ গ্রাম
চর্বি: ০.১ গ্রাম
শর্করা: ১১.৪ গ্রাম
ক্যালশিয়াম: ২১.০ মিলিগ্রাম
লোহা: ৫.৩ মিলিগ্রাম
ক্যারোটিন: ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন-এ: ১-০.০৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন-বি১: ০.০২ মিলিগ্রাম
ভিটামিন-সি: ৪৫.০ মিলিগ্রাম
এতসব গুণাগুণ থাকার কারণে সজিনা সত্যিই এক ‘অলৌকিক পাতা’ এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য একে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত beneficial।