সকালে গরম ভাতের পাতে হোক বা বিকেলের জলখাবারে— ডিম ছাড়া বাঙালির চলে না। আর ডিমের প্রিপারেশনের কথা বললে প্রথমেই মাথায় আসে ‘অমলেট’-এর নাম। কিন্তু বাঙালির ঘরে অমলেট শব্দটির চেয়েও একটি শব্দ বেশি জনপ্রিয়, সেটি হলো ‘মামলেট’। তবে জানেন কি, এই অমলেট আর মামলেট আসলে কি একই জিনিস, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প?
অমলেট (Omelette) আসলে কী?
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই পদটি মূলত ডিম ফেটিয়ে তাতে সামান্য নুন, গোলমরিচ এবং কখনও মাখন বা দুধ মিশিয়ে ফ্রাইং প্যানে ভেজে তৈরি করা হয়। ফরাসি ঘরানার অমলেটে ডিম খুব বেশি কড়া করে ভাজা হয় না, বরং ভেতরটা থাকে কিছুটা নরম ও তুলতুলে। ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ বা চিজ অমলেট সারা বিশ্বে বিখ্যাত।
তাহলে ‘মামলেট’ কী?
মজার বিষয় হলো, রান্নার পরিভাষায় ‘মামলেট’ বলে আসলে আলাদা কোনো পদ নেই। এটি মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা ‘অমলেট’ শব্দের একটি অপভ্রংশ বা লোকমুখে পরিবর্তিত রূপ। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহরের অনেক রান্নাঘরেও উচ্চারণের সহজতার কারণে অমলেট হয়ে গেছে ‘মামলেট’।
তফাতটা যেখানে চোখে পড়ে:
নামের তফাত থাকলেও আমাদের দেশে রান্নার ধরনে অমলেট ও মামলেটের মধ্যে সূক্ষ্ম একটি রেখা টেনে দিয়েছেন খাদ্যরসিকরা:
উপকরণ: সাহেবি অমলেটে সাধারণত শুধু নুন-মরিচ থাকে। কিন্তু বাঙালি ‘মামলেট’ মানেই তাতে কুচোনো পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা এবং কখনও কখনও আদা বা ধনেপাতার সমারোহ।
ভাজার স্টাইল: বিদেশি অমলেট ভাঁজ করা থাকে এবং হালকা আঁচে ভাজা হয়। অন্যদিকে বাঙালির মামলেট মানেই কড়া করে ভাজা, যার চারপাশটা হবে মুচমুচে আর লালচে।
আকার: অমলেট সাধারণত প্যানের আকারে গোল বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির হয়, কিন্তু আমাদের ঘরোয়া মামলেট অনেক সময় অনিয়মিত আকারের হতে পারে যা ভাতের পাতে এক টুকরো সুখ।
উপসংহার:
সহজ কথায় বলতে গেলে, ‘অমলেট’ হলো পোশাকি নাম, আর ‘মামলেট’ হলো আবেগ! আপনি এটিকে যে নামেই ডাকুন না কেন, স্বাদে এর কোনো তুলনা নেই। আপনি কি আজ সকালে অমলেট খেলেন নাকি মামলেট?





