বর্তমানে অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি পারিবারিক সূত্রে অর্থাৎ জিনগত কারণে হতে পারে। কিন্তু এর পাশাপাশি স্ট্রেস, ড্রায়ারের ব্যবহার, স্টাইলিং প্রোডাক্টের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং রোদে বেশি ঘোরাঘুরির কারণেও চুল পেকে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তবে এই সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে সহজেই আটকানো যেতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে অকালপক্কতা নিরাময়ের জন্য একটি পাতা অত্যন্ত কাজে আসে, সেটি হলো কারি পাতা। এই কারি পাতা যদি চুলের গোড়ায় লাগানো যায়, তা পুষ্টি বৃদ্ধি করে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
✨ চুল কালো ও ঘন করতে কারি পাতার হেয়ার মাস্ক
বাড়িতেই সহজে বানিয়ে নিতে পারেন কারি পাতার পুষ্টিকর হেয়ার মাস্ক।
-
১. তেল গরম করা: প্রথমে নারকেল তেল গরম করে নিন।
-
২. পাতা যোগ: তেল গরম হয়ে গেলে বার্নার বন্ধ করে কারি পাতাগুলো তেলের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।
-
৩. পুষ্টি শোষণ: পাতার গন্ধ ও পুষ্টিগুণ যাতে পুরোপুরি তেলের সঙ্গে মিশে যায়, সেই সময়টুকু দিতে হবে— অন্তত ২০ মিনিট।
-
৪. মালিশ: তেল পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গেলে হালকা উষ্ণ তেল ভালো করে মাথার চুলে ও চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করতে হবে।
-
৫. কন্ডিশনিং: সারারাত সেই তেল মাথায় রেখে পরদিন শ্যাম্পু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে জল ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে কন্ডিশনিংও করে নিতে হবে।
-
বোনাস টিপস: আরও একটু বেশি ফল পেতে ধোয়ার আগে চুলে ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুল আরও নরম হবে।
💊 চুলের বাইরেও কারি পাতার আরও ৫ উপকারিতা
কারি পাতা শুধুমাত্র চুলের জন্যই উপকারী নয়, এর রয়েছে আরও অনেক স্বাস্থ্যগুণ:
-
১. হজম ক্ষমতা বাড়ায়: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কারি পাতা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। কারণ, এই পাতা হজমের সাহায্যকারী এনজাইমকে উদ্দীপিত করে এবং অন্ত্র ভালো রাখে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যও কমে।
-
২. বমি বমি ভাব কমায়: কারি পাতা হজমশক্তি বাড়ানোর মাধ্যমে বমি বমি ভাব এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
-
৩. ওজন কমায়: কাঁচা কারি পাতা চিবালে হজমশক্তি বাড়ে, শরীরের ডিটক্সিফিকেশন হয় এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওজন কমাতে সাহায্য করে।
-
৪. দৃষ্টিশক্তি ও রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ: এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
-
৫. কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে: নিয়মিত কারি পাতা গ্রহণ শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
সতর্কীকরণ: যেকোনো বিশেষ ধরনের খাদ্য পরিকল্পনা বা ঘরোয়া চিকিৎসা অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।