সঙ্গমের পর মাথাব্যথা করা কোনো দুরারোগ্য অসুখ নয় ঠিকই। কিন্তু বিরল এই রোগটি বড় বেয়াড়া। যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া যেতে চায় না। সঙ্গমের পর মাথাব্যথা করাকে বলা হয়, সেক্সুয়াল হেডেক।
চিকিৎসার পরিভাষায় এই সমসসাকে বলা হয়- প্রাইমারি কয়টাল হেডেক। অনেকে অর্গ্যাজম হেডেকও বলেন। এ মাথাব্যথার উদ্রেক হয় যৌন উত্তেজনার পরেই। শুধু মিলনের ক্ষেত্রেই নয়, এমনকি হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হয়ে থাকে।
কেন এমন হয়?
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অনিমেষ কর জানাচ্ছেন, এর সঙ্গে মাইগ্রেনের কিছুটা মিল রয়েছে। অর্থাৎ এটাও একটা ‘নিউরো-ভাস্কুলার’ ঝামেলা। মানে, মস্তিষ্কের স্নায়ুর উদ্দীপনায় ফুলে ওঠে মস্তিষ্কের রক্তবাহিকা। তার জেরেই এই যন্ত্রণা। যা সিংহভাগ ক্ষেত্রে হয় মাথার দু’দিকেই আর এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে হয় মাথার একদিকে, একদম আধকপালির মতোই। যৌন উত্তেজনা এই কয়টাল হেডেকের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের কাজ করে। আর তাতেই যত মাথাব্যথা! প্রথম প্রথম হয় অর্গ্যাজমের পরে। আর রোগ ডালপালা মেললে দেখা যায়, যৌনমিলনের শুরুতেই আরম্ভ হয় ব্যথাটা যা অর্গ্যাজমের পরে আচমকা বেড়ে যায় মারাত্মক ভাবে।
বিষয়টি আরো পরিষ্কার করে দিয়েছেন ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ প্রকাশ কোঠারি। যৌনরোগ চিকিৎসায় এশিয়ার প্রথম ডিগ্রিধারী ওই চিকিৎসক বর্তমানে মুম্বাইয়ের কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালের সেক্সুয়াল মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে এখনো পর্যন্ত যৌনতা সম্পর্কিত প্রায় ৫৫ হাজার রোগী দেখেছি স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে। এর মধ্যে ১৫-২০ জনের ক্ষেত্রে কয়টাল হেডেক দেখেছি। ব্যাপারটা একেবারেই মানসিক নয়, পুরোটাই শারীরবৃত্তীয়। তবে বিরল। কিন্তু অত্যন্ত কষ্টকর।’
তিনি জানান, যৌন উত্তেজনার সময়ে হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি এবং রক্তচাপ অসম্ভব বেড়ে যায়। বলা ভালো, প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তখনই মাথার ভেতরে থাকা রক্তবাহিকাগুলো ফুলে উঠে যন্ত্রণার জন্ম দেয়।
তবে প্রকাশ বলেন, অনেকের এই যন্ত্রণাটা মাথার পেছন দিকে ঘাড়ের সংযোগস্থলেও হয়। সেটা কিন্তু কয়টাল হেডেক নয়, বরং অক্সিপিটাল হেডেক। মাথার নিচে শুধু ঘাড়েও যন্ত্রণা হয় এতে। এর সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হলো যৌনমিলনের ‘পজিশন’ বদলে নেয়া। তাতেই উপশম মেলে ব্যথার। অনিমেষ জানাচ্ছেন, এতে অক্সিপিটাল নার্ভে প্রদাহ হয় বলে যন্ত্রণাটা হয়। কিন্তু কয়টাল হেডেকে প্রদাহটা হয় ট্রাইজেমিনাল নার্ভে এবং তার জেরেই রক্তবাহিকা ফুলে ওঠে। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদেরই কয়টাল হেডেক বেশি দেখা যায়। এবং তা পুরুষের ক্ষেত্রেই বেশি।
বিচিত্র ও বিরক্তিকর এই মাথাব্যথা সারানোর উপায় কী?
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, চিকিৎসার আগে যথাযথ রোগনির্ণয় হওয়া জরুরি। এই মাথা যন্ত্রণার কারণ যে মস্তিষ্কের কোনো টিউমার বা রক্তবাহিকার অস্বাভাবিক ফুলে ওঠা (অ্যানিউরিজম) কিংবা সাব-অ্যারাকনয়েড হেমারেজ নয়, তা সিটি স্ক্যান, সিটি-অ্যাঞ্জিওগ্রাফি এবং এমআরআই করে নিশ্চিত হতে হয় আগে। কয়টাল হেডেক ধরা পড়লে প্রোপ্রানোলোল জাতীয় রক্তচাপ কমানোর ওষুধ এবং ব্যথানিবারক ইন্ডামিথাজোন ট্যাবলেট খেলেই সারে এই মাথা যন্ত্রণা। অবশ্য কারো কারো ক্ষেত্রে বিনা চিকিৎসাতেও সেরে ওঠে এই মাথাব্যথা। যদিও সে ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট সহ্য না করাই বিচক্ষণতা