বর্তমান সময়ে ফিটিং বা টাইট পোশাক পরাটা স্টাইলের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্লিম দেখাতে অনেকেই নিজের সাইজের চেয়েও ছোট বা অতিরিক্ত আঁটসাঁট জিন্স, লেগিংস বা বডি শেপার পরেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ এই ধরণের পোশাক পরে থাকা শরীরের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। ফ্যাশন করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই আপনি শরীরকে ভেতর থেকে অসুস্থ করে তুলছেন।
টাইট পোশাক পরার ৫টি ক্ষতিকর দিক একনজরে দেখে নিন:
১. রক্ত সঞ্চালনে বাধা (Poor Blood Circulation)
অতিরিক্ত টাইট পোশাক, বিশেষ করে কোমরের কাছে বা কুঁচকির অংশে চাপ সৃষ্টি করলে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে হাত-পা ঝিনঝিন করা, পা ফুলে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে ‘ভেরিকোজ ভেইন’ (Varicose Veins) বা শিরার স্ফীতি দেখা দিতে পারে।
২. হজমের গুরুতর সমস্যা
আপনি কি খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটি অনুভব করেন? অতিরিক্ত টাইট প্যান্ট বা বেল্ট পেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা পাকস্থলীর অ্যাসিডকে উল্টো দিকে ঠেলে দেয়। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ (GERD) বলা হয়। এতে বুক জ্বালাপোড়া এবং বদহজম বাড়ে।
৩. নার্ভের ক্ষতি বা ব্যথা
দীর্ঘক্ষণ টাইট জিন্স পরলে ঊরুর বাইরের দিকের স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এর ফলে ‘মেরালজিয়া প্যারেস্থেটিকা’ (Meralgia Paresthetica) নামক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যাতে ঊরুতে অবশ ভাব, জ্বালাপোড়া বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
৪. ত্বকের সংক্রমণ ও ফুসকুড়ি
আঁটসাঁট পোশাকে বাতাস চলাচলের জায়গা থাকে না। এর ফলে ঘাম শুকানোর সুযোগ পায় না এবং ত্বকের সাথে কাপড়ের ঘর্ষণে র্যাস, চুলকানি বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে অন্তর্বাস বা জিমের পোশাক অতিরিক্ত টাইট হলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)-এর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
৫. শ্বাসকষ্ট ও অবসাদ
খুব টাইট টপস বা করসেট পরলে ফুসফুস পর্যাপ্ত অক্সিজেন নেওয়ার মতো জায়গা পায় না। এতে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দ্রুত ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ফ্যাশন অবশ্যই করবেন, তবে তা যেন আপনার স্বাস্থ্যের বিনিময়ে না হয়। সুতির আরামদায়ক ও সঠিক মাপের পোশাক বেছে নিন। যদি স্টাইলের প্রয়োজনে টাইট পোশাক পরতেই হয়, তবে তা যেন ৪-৫ ঘণ্টার বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।