এক সময় ধারণা ছিল সন্তান লালন-পালন মানেই কেবল মায়ের দায়িত্ব, আর বাবার কাজ শুধু উপার্জন। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিক গবেষণা বলছে, বর্তমান প্রজন্মের বাবারা তাঁদের আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সময় সন্তানদের সঙ্গে কাটাচ্ছেন। এই পরিবর্তন শুধু সামাজিক নয়, এর গভীর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশুর মস্তিষ্ক ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক বিকাশে।
বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপট: ১৯৮০-এর দশকের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, সেই সময়ের প্রায় অর্ধেক বাবা কোনোদিন সন্তানের ন্যাপি বা ডায়াপার ছুঁয়েও দেখেননি। আজ সেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মিলেনিয়াল ও জেনারেশন-জেড বাবাদের কাছে সন্তানের খাবার তৈরি করা, স্নান করানো বা স্কুলের হোমওয়ার্কে সাহায্য করা এখন অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গর্বের দায়িত্ব।
নিউরোসায়েন্স ও শিশুর মস্তিষ্ক: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড-এর মতে, শিশুর মস্তিষ্ক গড়ে ওঠে সম্পর্কের নিবিড়তার ওপর ভিত্তি করে। বাবা যখন শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করেন বা কান্নায় সাড়া দেন, তখন শিশুর মস্তিষ্কে আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক আচরণের স্নায়ু সংযোগগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। বাবার উপস্থিতিতে শিশুর স্নায়ুতন্ত্রে এমন এক ভিন্ন উদ্দীপনা তৈরি হয়, যা মায়ের যত্নের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে শিশুর আত্মবিশ্বাস ও ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা: শিশু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যেসব শিশু ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সক্রিয়ভাবে পাশে পায়, তাদের মধ্যে ‘সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট’ বা নিরাপদ বন্ধন তৈরি হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে তারা অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে এবং সামাজিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বেশি দক্ষ হয়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ শুধু শিশুর বিকাশই নয়, বাবা-মায়ের পারস্পরিক সম্পর্কের বাঁধনকেও মজবুত করে।
আধুনিক বাবা হওয়া মানে কেবল পরিবারের প্রধান হওয়া নয়, বরং সন্তানের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সক্রিয় অংশীদার হওয়া। এই সামাজিক অগ্রগতিই আগামী দিনের একটি সুস্থ ও মানসিকভাবে শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে তোলার চাবিকাঠি।