সংসদের চলতি অধিবেশনে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের মারাঠি এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের তামিল ভাষায় বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত ২২টি ভাষাতেই দেশের সাংসদরা সংসদে নিজেদের মতামত তুলে ধরার অধিকার রাখেন। কিন্তু একাধিক ভাষায় বক্তব্য রাখলে তা অন্য সাংসদরা বুঝতে পারেন কীভাবে? এই জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এখন অনেক সহজে সমাধান করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের জন্য সাউন্ডপ্রুফ কক্ষে প্রশিক্ষিত অনুবাদকরা বসে থাকতেন। তাঁরা তৎক্ষণাৎ বক্তৃতাগুলি হিন্দি ও ইংরেজিতে অনুবাদ করতেন, যা অন্য সাংসদরা হেডফোনের মাধ্যমে শুনতেন। তবে বর্তমানে অনুবাদকে আরও নির্ভুল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়ায় অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের নিজস্ব AI মডেল ‘ভাষিণী’
সংসদ চত্বরে অবশ্য জেমিনাই, চ্যাট জিপিটি বা গ্রক-এর মতো বহুল পরিচিত এআই মডেল ব্যবহার করা হয় না। এর বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারত সরকারের নিজস্ব তৈরি এআই মডেল, যার নাম ভাষিণী (ভাষা ইন্টারফেস ফর ইন্ডিয়া)। বৈদ্যুতিন ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।
‘ভাষিণী’ মডেলটি একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে, যেমন— অটোম্যাটিক স্পিচ রেকগনিশান, মেশিন ট্রান্সলেশন, টেক্সট টু স্পিচ এবং অপটিক্যাল ক্যারেকটার রেকগনিশন।
এআই কেন আনা হলো?
সংসদের আলোচনা আইনি ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে পারে। তাই নির্ভুলতা বজায় রাখা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এআই মডেলটিকে মানুষের বিকল্প হিসেবে আনা হয়নি। এর প্রধান কাজ হলো পেশাদার অনুবাদকদের কাজকে আরও দ্রুত এবং সহজ করে তোলা। তবে চূড়ান্ত অনুবাদের নির্ভুলতার জন্য এখনও প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ অনুবাদকদের উপরই নির্ভর করা হয়।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। সম্প্রতি নির্মলা সীতারমণের বক্তৃতার সময় তিনি সরাসরি অন্য সাংসদদের কাছে জানতে চান যে, অনুবাদ ঠিকঠাক আসছে কি না। সবশেষে তিনি বলেন, “আসলে ভারতের সংসদে এটাও নতুন।” এর মাধ্যমে প্রমাণিত, প্রযুক্তি ও ভাষার মেলবন্ধনে ভারতীয় সংসদ এক নতুন ইতিহাস তৈরি করছে।