ব্র্যান্ডের জুতায় বিনিয়োগ করা কি উপকারী? জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা?

আমাদের সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত—দামী মানেই ভালো। সেই ধারণা থেকেই অনেকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ব্র্যান্ডের জিনিস কেনেন। সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একজোড়া ‘নাইকি’ (Nike) জুতো ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে প্রবল বিতর্ক। কেউ বলছেন এটি বিলাসিতা, আবার কেউ বলছেন স্বাস্থ্যের খাতিরে ভালো মানের জুতো পরাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে তর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে যদি বিজ্ঞানের কথা ভাবি, তবে প্রশ্ন জাগে—দামী জুতো কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী? হার্ভার্ড মেডিকেলের গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন।

১. পায়ের হাড় ও পেশির সুরক্ষা: দামী বা ভালো মানের জুতোর আসল বিশেষত্ব হলো তার ‘আর্চ সাপোর্ট’ ও ‘কুশনিং’। এটি হাঁটার সময় শরীরের ওজন পায়ের পাতার ওপর সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়। নিম্নমানের জুতোর সোল শক্ত হওয়ায় গোড়ালি ও পায়ের তলায় অসহ্য ব্যথা (প্লান্টার ফ্যাসাইটিস) হতে পারে। দামী জুতোয় ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি এই ঝুঁকি কমায়।

২. হাঁটু, কোমর ও মেরুদণ্ডের রক্ষাকবচ: পায়ের অবস্থান ঠিক না থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ে হাঁটু ও মেরুদণ্ডে। ভুল জুতো ব্যবহার করলে হাঁটুর হাড়ের সংযোগস্থলে চাপ বাড়ে, যা পরবর্তীকালে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণ হতে পারে। ভালো মানের জুতো শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে মেরুদণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে।

৩. সংক্রমণ ও চর্মরোগ রোধ: সস্তার জুতোর সিনথেটিক উপাদানে বাতাস চলাচলের জায়গা থাকে না। এতে পা ঘামলে তা শুকোয় না, ফলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ফোসকা ও পায়ে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। ভালো ব্র্যান্ডের জুতোর উপাদান এমনভাবে তৈরি যা পা-কে শুকনো রাখতে এবং শ্বাস নিতে সাহায্য করে।

৪. দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়: হয়তো একবারে অনেকটা টাকা খরচ করতে হচ্ছে, কিন্তু একটি ভালো মানের জুতো বছরের পর বছর চলে। বারবার সস্তার জুতো কিনে নষ্ট হওয়ার চেয়ে একবার ভালো জুতো কেনা আদতে পকেটের জন্য সাশ্রয়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুতো কেনার সময় ব্র্যান্ডের নামের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত জুতোর আরাম এবং উপাদানের ওপর। যদি উচ্চমূল্যের বিনিময়ে পায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, তবে তাকে বিলাসিতা না বলে ‘স্বাস্থ্যকর বিনিয়োগ’ বলাই শ্রেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy