দাঁত কে মজবুত রাখতে ,জেনেনিন কিছু বিশেষ তথ্য

দাঁত সুস্থ রাখার জন্য দাঁত মাজার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয় সবসময়। সে কারণেই দাঁত মাজার সঠিক নিয়মগুলো আলাদাভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। যে কাজটি দাঁতকে সুস্থ রাখবে, সে কাজটি পালনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আবশ্যিকভাবে মেনে চলা খুবই জরুরি। ভুল নিয়ম ও সঠিক তথ্যের অভাবে উপকারী দাঁত মাজার অভ্যাস থেকেই দেখা দিতে পারে দাঁতের সমস্যা। এ কারণে সচেতনতা গড়ে তুলতে জেনে রাখুন দাঁত মাজার ক্ষেত্রে জরুরি সাত নিয়ম।

সঠিক টুথব্রাশ নির্বাচন করা
দাঁত মাজার জন্য যেকোন একটি ব্রাশ হলেই তো হয়- এমনটাই ভাবি আমরা সবাই। ভুলটা তাই এখানেই বেশি হয়। সবার মুখ, চোয়ালের গঠন, দাঁতের সেটিং এক হয় না। এ কারণে নিজের মুখ ও দাঁতের স্থানের সাথে মানানসই ব্রাশ নির্বাচন করা খুবই জরুরি। এছাড়া অনেকের মুখের ভেতরের অংশ অন্যদের চাইতে তুলনামূলক স্পর্শকাতর ও নমনীয় হয়ে থাকে। তাদের জন্য নরম ও কোমল কিউটিকলের ব্রাশ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নিজের মুখের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে ও সচেতন হয়ে তবেই ব্রাশ নির্বাচন করতে হবে।

কতক্ষণ ধরে দাঁত মাজতে হবে
প্রত্যেকের জন্যই দৈনিক দুই বার দাঁত মাজা হলো সঠিক সংখ্যা। এটা কমবেশি সকলে জানলেও কতটুকু সময় নিয়ে দাঁত মাজা প্রয়োজন ও সঠিক সেটা অধিকাংশই জানেন না। প্রতিবার দাঁত মাজার সময় দুই মিনিট সময় ব্যয় করতে হবে। দুই মিনিটের কম হলে সকল দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার হবে না এবং দুই মিনিটের সময় ব্যয় করা হলে দাঁতের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং গামলাইনে ক্ষত তৈরি হতে পারে।

দাঁত মাজার কৌশল
ব্রাশের সাহায্যে খুব জোরে সামনে-পেছনে দাঁত মাজার ফলে গাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং গাম নিচের দিকে নেমে যায়। এ কারণে দাঁত মাজার সময় বৃত্তাকারে ও ধীরে দাঁতের উপর ব্রাশের সাহায্যে ঘুরিয়ে নিতে হবে। এতে করে গামলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।

কতখানি চাপ প্রয়োগ করতে হবে
দাঁত মাজার নিয়ম সঠিকভাবে জানার পর ব্রাশের সাহায্যে দাঁতের উপর কতটুকু চাপ প্রয়োগ করতে হবে সেটাও জেনে রাখতে হবে। কখনোই দাঁতের উপর ব্রাশের সাহায্যে বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। এতে করে দাঁতের উপরের আস্তরণ দুর্বল হয়ে পরে। ফলে ঠাণ্ডা বা গরম কিছু খেলে বা পান করলে দাঁতে শিরশিরে অনুভূতি তৈরি হয়।

ব্রাশ ব্যবহারের অভ্যাস
খেয়াল করে দেখবেন প্রতিবার দাঁত ব্রাশ করার শুরুটা একই রকমভাবে করা হয়। এটা অনেকটা অটোমেটিক হয়ে যায় এবং এই অভ্যাসের থেকে আমরা বের হতে পারি না। দন্ত চিকিৎসকরা এই অভ্যাসে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণে একই নিয়মে প্রতিবার দাঁত মাজা শুরু করা হলে একই প্যাটার্নে দাঁত মাজা হয়। এতে করে কোন নির্দিষ্ট স্থানের দাঁত তুলনামূলক কম পরিষ্কার থেকে যায়।

সময়ে খেয়াল রাখা
সময়ে খেয়াল রাখা বলতে বোঝানো হচ্ছে, কোন খাবার খাওয়ার কতক্ষণ পর দাঁত মাজা নিরাপদ যে বিষয়ে নজর রাখা। অ্যাসিডিক কোন খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর দাঁত মাজতে হবে। অ্যাসিডিক খাবারের অ্যাসিডিক ধর্ম দাঁত ও দাঁতের উপরের আস্তরণকে দুর্বল করে দেয়। এ সময়ে দাঁত মাজলে এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

ব্রাশ পরিবর্তন
সকল নিয়ম মেনে এই নিয়মে যদি গাফেলতি করা হয় তবে কোন লাভ হবে না একেবারেই। প্রতিদিন যে জিনিসটি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা অবশ্যই তিন মাস অন্তর বদলাতে হবে। নতুবা এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মে দাঁত ও গামলাইনে প্রভাব বিস্তার করবে।

RS

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy