জন্মের সময় সাথে আসে মাত্র ২টো ভয়! বাকি সব কি তবে আমাদের শেখানো? চমকে দেবে বিজ্ঞান!

আমরা ভাবি, একটা ছোট্ট শিশু তো একদম নিষ্পাপ, ভয়ের জগত থেকে অনেক দূরে। কিন্তু নিউরোসায়েন্স বলছে ভিন্ন কথা। মানুষ পুরোপুরি ভয়হীন হয়ে জন্মায় না। অবাক করা বিষয় হলো, জন্মের সময় আমাদের মস্তিষ্কে মাত্র দুটি ভয় প্রি-প্রোগ্রামড বা জন্মগতভাবে থাকে। বাকি সব ভয়— তা সাপ হোক বা অন্ধকার— সবই আমরা বড় হতে হতে সমাজ আর পরিবেশ থেকে শিখি।

১. জন্মগত সেই দুই ‘মহাসত্য’

বিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর স্নায়ুতন্ত্রে দুটি আদিম অ্যালার্ম সিস্টেম সেট করা থাকে:

  • হঠাৎ বিকট শব্দের ভয়: শিশুর সামনে আচমকা জোরে শব্দ হলে সে চমকে ওঠে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্টার্টল রিফ্লেক্স’

  • উচ্চতার ভয়: ১৯৬০ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত ‘ভিজুয়াল ক্লিফ’ (Visual Cliff) পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শিশু হাঁটতে শেখার আগেই উচ্চতার বিপদ আঁচ করতে পারে।

২. ভয় যখন শেখানো বিষয়!

ভূত, অন্ধকার, সাপ কিংবা পরীক্ষার ভয়— এগুলো কিন্তু আমাদের ডিএনএ-তে নেই। জন বি. ওয়াটসনের বিতর্কিত ‘লিটল অ্যালবার্ট’ পরীক্ষা দেখিয়েছিল যে, ভয় আসলে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষের মনে গেঁথে দেওয়া যায়। শিশু যখন দেখে তার চারপাশের বড়রা কোনো বিশেষ বিষয়ে আতঙ্কিত হচ্ছে, তখন সে অবচেতনভাবেই সেই ভয়টি নিজের মধ্যে লালন করতে শুরু করে।

৩. অভিভাবকদের জন্য বিশেষ বার্তা

গবেষণা বলছে, যেহেতু ভয় মূলত একটি ‘অর্জিত বিদ্যা’, তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব। অভিভাবক হিসেবে আপনার করণীয়:

  • শান্ত থাকা: শিশু ভয় পেলে আপনি নিজে আতঙ্কিত হবেন না। আপনার শান্ত আচরণ তাকে সাহস দেবে।

  • অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলুন: “ওখানে যেও না,” “এটা ধরো না”— সারাক্ষণ এমন নেতিবাচক সতর্কতা শিশুর মনে অমূলক উদ্বেগের জন্ম দেয়।

  • আশ্বস্ত করা: অজানাকে জানার প্রক্রিয়ায় তাকে উৎসাহ দিন। মনে রাখবেন, ভয় আমাদের রক্ষার জন্য, দমিয়ে রাখার জন্য নয়।

মানুষ ভয় নিয়ে জন্মালেও, সে ভয় দিয়ে গড়া নয়। আপনার সঠিক গাইডেন্সই পারে আপনার শিশুকে মানসিকভাবে দৃঢ় ও সাহসী করে তুলতে।

তথ্যসূত্র: জন বি. ওয়াটসন (১৯২০), এলিনর গিবসন ও রিচার্ড ওয়াক (১৯৬০), ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি ও নিউরোসায়েন্স গবেষণা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy