খাবার অপচয় রোধে ফ্রিজ একটি অপরিহার্য কিচেন গ্যাজেট হলেও, কিছু খাবার ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে তা স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আলু। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আলু ফ্রিজে রাখলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে এবং এর থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
🥶 আলু ফ্রিজে রাখলে কেন বিপদ?
আলু ফ্রিজে রাখলে শীতল তাপমাত্রার কারণে আলুর মধ্যে থাকা শ্বেতসার (Starch) দ্রুত চিনিতে রূপান্তরিত হয়। এই চিনি যখন উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না বা ভাজা হয় (যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা আলুর চিপস), তখন এটি আলুর মধ্যে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে মিশে যায়।
☠️ বিপজ্জনক ‘অ্যাক্রিলামাইড’ সৃষ্টি
যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সির (FSA) গবেষণা অনুসারে, চিনি এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের এই সংমিশ্রণেই তৈরি হয় অ্যাক্রিলামাইড (Acrylamide) নামের একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক।
-
বিপদ: আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির (ACS) তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না বা ভাজার সময় এই অ্যাক্রিলামাইড নির্গত হয়। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে এই রাসায়নিকটি ক্যান্সার সৃষ্টির বীজ বপনে ভূমিকা রাখতে পারে।
-
ইতিহাস: খাবারে অ্যাক্রিলামাইডের উপস্থিতি প্রথম লক্ষ্য করা যায় ২০০২ সালে। গবেষণায় জানা গেছে, যাঁরা উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা শ্বেতসারযুক্ত পণ্য গ্রহণ করেন, তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
💡 বিশেষজ্ঞদের সমাধান ও বিকল্প পদ্ধতি
এই গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি সহজ কিছু পরামর্শ দিয়েছে:
১. সঠিক সংরক্ষণ: আলু ফ্রিজে না রেখে সাধারণ তাপমাত্রা বা কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। ২. রান্নার তাপমাত্রা: আলু রান্না বা ভাজার সময় অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহার না করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
💧 ঝুঁকি কমাতে সহজ বিকল্প
ঝুঁকি কমাতে একটি সহজ বিকল্প পদ্ধতি হলো: রান্নার আগে আলুর খোসা ছাড়িয়ে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখা। এতে রান্নার সময় অ্যাক্রিলামাইড সৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
সুতরাং, আলুর সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে, সংরক্ষণের সময় এবং রান্নার পদ্ধতিতে সামান্য পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।