কিডনিতে পাথরের সমস্যা বর্তমান সময়ে একটি বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসহ্য যন্ত্রণা আর দীর্ঘদিনের চিকিৎসা— এই ভোগান্তি থেকে বাঁচতে আমরা অনেকেই জল বেশি খাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু অতি পরিচিত খাবারই আপনার অজান্তে কিডনিতে পাথর (Kidney Stone) তৈরি করছে?
চিকিৎসকদের মতে, আমাদের খাদ্যাভ্যাসের অনিয়মই এই রোগের প্রধান কারণ। জেনে নিন কোন খাবারগুলো আপনার কিডনির জন্য ‘লাল সংকেত’ হতে পারে:
১. অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার
লবণে থাকা সোডিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম নির্গত হতে বাধা দেয়। এই অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কিডনিতে জমা হয়েই পরবর্তীকালে পাথরের রূপ নেয়। তাই পাতে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন।
২. অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার
যাঁদের কিডনিতে পাথরের প্রবণতা আছে, তাঁদের জন্য অক্সালেট যুক্ত খাবার বিষের মতো। পালং শাক, বিট, চকোলেট এবং অতিরিক্ত চা-কফিতে প্রচুর অক্সালেট থাকে। এগুলো ক্যালসিয়ামের সাথে মিশে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ পাথর তৈরি করে।
৩. রেড মিট বা লাল মাংস
খাসি বা গরুর মাংসের মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি শুধু কিডনিতে পাথরই নয়, হাড়ের জয়েন্টে ব্যথারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৪. প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
চিপস, ক্যানড সুপ বা জাঙ্ক ফুডে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং সোডিয়াম থাকে। ডেইলিয়ান্ট পাঠকদের মনে রাখা উচিত, এই কৃত্রিম উপাদানগুলো কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং পাথর জমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
৫. কোল্ড ড্রিঙ্কস ও অতিরিক্ত চিনি
মিষ্টি পানীয় বা কোল্ড ড্রিঙ্কসে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি পাথর তৈরির সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম সুইটনারও কিডনির ক্ষতি করে।
বাঁচার উপায় কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব:
দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন।
খাবারে লেবুর রস মিশিয়ে খান, এতে থাকা সাইট্রেট পাথর জমতে বাধা দেয়।
ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার (যেমন দুধ, পনির) সরাসরি বর্জন করবেন না, বরং অক্সালেটযুক্ত খাবারের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে খান।





