বাঙালির পাতে রোজ দুপুরে বা রাতে এক থালা গরম ভাত থাকবে না, এমনটা ভাবাই যায় না। ভাতের সঙ্গে এ রাজ্যের মানুষের এক দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্ক। তবে আধুনিক যুগে স্বাস্থ্য সচেতনতার বাড়বাড়ন্তের কারণে অনেকেই ভাত খাওয়া নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। বিশেষ করে ওজন কমানোর পর্বে ভাতকে একেবারে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা! তাঁদের মতে, ভাতে এমন অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
নিয়মিত সঠিক পরিমাণে ভাত খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং অনেক রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব হয়। আসুন, জেনে নেওয়া যাক ভাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা:
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: ওজন কমাতে অনেকেই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। আর ভাত হল সেই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারগুলির মধ্যে অন্যতম। ফাইবার আমাদের মলত্যাগ প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ভাত থাকা জরুরি। পুষ্টিবিদরা মনে করেন, ভাতের বদলে শুধু গমের রুটি খেলে শরীর পর্যাপ্ত অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
কোলেস্টেরল ও ফ্যাট মুক্ত: সাধারণভাবে ভাতে কোলেস্টেরল এবং ট্রান্স ফ্যাট থাকে না। এটি কার্বোহাইড্রেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং সঠিক পরিমাণে খেলে তা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
কম অ্যালার্জেনিক খাবার: ভাতকে সবচেয়ে কম অ্যালার্জেনিক খাবার হিসেবে ধরা হয়। তাই যাদের বিভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি বা ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য ভাত একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
সহজে হজমযোগ্য: অন্যান্য অনেক শস্যের তুলনায় ভাত খুব সহজেই হজম করা যায়। কারণ বেশিরভাগ দানাদার শস্যের বাইরের আবরণে ফাইটিক অ্যাসিড থাকে, যা হজমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে পালিশ করা চালের বাইরের আবরণ না থাকায় এটি দ্রুত হজমযোগ্য।
অ্যামিনো অ্যাসিডের উৎস: গবেষণায় দেখা গেছে, ভাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এই অ্যামিনো অ্যাসিড মানবদেহের বিভিন্ন কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মন ভালো রাখে: ভাত খেলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক একটি হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। সম্ভবত এই কারণেই ভাত খেলে আমরা তৃপ্তি ও আনন্দের অনুভূতি পাই।
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: বিভিন্ন তরকারি, ডাল বা মাছ-মাংসের সঙ্গে ভাত খেলে তা রক্তের শর্করার মাত্রাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
আয়রনের উৎস: রক্তাল্পতা বা আয়রনের অভাবজনিত রোগে যারা ভুগছেন, তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত যোগ করা উচিত। সাদা বা ব্রাউন উভয় ধরনের চালই আয়রন এবং ফোলেটের সমৃদ্ধ উৎস, যা আমাদের শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
সুতরাং, ভাতকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। পরিমিত পরিমাণে ভাত গ্রহণ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে অবশ্যই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এবং নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ভাত খাওয়া উচিত।