দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততার কারণে অনেকেই প্রস্রাব চেপে রাখেন। কখনো অফিসের কাজের চাপে, কখনো আবার রাস্তায় পরিষ্কার শৌচালয়ের অভাবে এমনটি হয়ে থাকে। তবে জানেন কি, এটি অভ্যাসে পরিণত হলে আপনার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে?
ভারতের এক সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নেহা গুপ্তা জানিয়েছেন, প্রস্রাব চেপে রাখার ফলে অন্তত পাঁচটি গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সময়মতো প্রস্রাব না করলে হতে পারে ভয়াবহ বিপদ। আসুন, জেনে নিই প্রস্রাব চেপে রাখার সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো—
১. কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা
প্রস্রাবে ইউরিয়া ও অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো বিষাক্ত উপাদান থাকে। যদি প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখা হয়, তাহলে এসব টক্সিন কিডনিতে জমতে শুরু করে। এতে কিডনিতে পাথর (কিডনি স্টোন) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
২. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)
বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে মূত্রথলিতে (ব্লাডার) জীবাণুর বৃদ্ধি ঘটে। ফলে মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) হতে পারে। এটি হলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা ও ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা যায়।
৩. ব্লাডারে চাপ ও ব্যথা
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করলে মূত্রথলি ফুলে যেতে পারে। এতে প্রস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্লাডারের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, যার ফলে মূত্র ত্যাগের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে যায়।
৪. কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা
প্রস্রাব চেপে রাখলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। এটি যদি নিয়মিত হয়, তাহলে কিডনির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন চলতে থাকলে কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
৫. ব্লাডারের মাংসপেশির ক্ষতি
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করলে ব্লাডারের মাংসপেশি প্রসারিত হতে থাকে। ফলে ব্যথা, অস্বস্তি ও মূত্রত্যাগের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে প্রস্রাব ধরে রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
সতর্কতা ও করণীয়
প্রস্রাব চেপে রাখার বদভ্যাস পরিহার করুন।
প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর প্রস্রাব করুন, বিশেষত যদি পানি ও তরল খাবার বেশি পান করেন।
যেখানেই থাকুন না কেন, আশেপাশে শৌচালয় খুঁজে নিন এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করুন।
প্রস্রাবের রঙ অস্বাভাবিক মনে হলে বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সুস্থ থাকতে হলে শরীরের প্রাকৃতিক প্রয়োজনগুলো অবহেলা করা যাবে না। তাই সময়মতো প্রস্রাব করা শুধু স্বস্তির জন্যই নয়, স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। 🚰