পিত্তথলি বা গলব্লাডারের পাথর আসলে কোনো পাথর নয়; এটি মূলত কোলেস্টেরল বা পিত্তরসের জমে যাওয়া শক্ত অংশ। অনেকেরই ধারণা, কেবল অনিয়মিত খাবার খেলে এটি হয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, আমাদের জীবনযাত্রার কিছু সুনির্দিষ্ট ভুলই এই সমস্যার মূল কারণ।
কেন আমাদের পিত্তথলিতে পাথর জমে? এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল: পিত্তরসে যখন কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়, তখন লিভার সেই বাড়তি চর্বি গলাতে পারে না। এই জমে থাকা চর্বিই ধীরে ধীরে পাথরের আকার ধারণ করে।
২. ওজন কমানোর ভুল পদ্ধতি: যারা খুব দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ করেন বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকেন, তাদের লিভার থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নির্গত হয়। এটি পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. ফাইবারহীন ও চর্বিযুক্ত খাবার: পাতে যদি শাকসবজি বা আঁশযুক্ত খাবারের অভাব থাকে এবং ভাজা পোড়া বা রেড মিট (খাসি বা গরুর মাংস) বেশি থাকে, তবে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
৪. শারীরিক অলসতা ও স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটি পিত্তরসে কোলেস্টেরলের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। যারা পর্যাপ্ত পরিশ্রম করেন না, তাদের পিত্তথলি থেকে পিত্তরস ঠিকমতো নির্গত হতে পারে না, যা পাথর জমার পথ প্রশস্ত করে।
৫. জল কম খাওয়ার প্রবণতা: শরীরে জলের অভাব হলে পিত্তরস ঘন হয়ে যায়। এই ঘন রসই কালক্রমে জমাট বেঁধে পাথরে রূপান্তরিত হয়।