ওজন কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে দিনের শুরুতে অর্থাৎ সকালে বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের খাবারের তুলনায় সকালে বেশি খেলে শরীরে দ্বিগুণ ক্যালরি খরচ হতে পারে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।
জার্মানির এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, মানব শরীরে দিনের প্রথমভাগে গ্রহণ করা ক্যালরি এবং দিনের শেষভাগে গ্রহণ করা ক্যালরির বিপাক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর ফলে, দিনের শুরুতে যারা তুলনামূলকভাবে বেশি খাবার খান, তারা দিনের বাকি সময়ে তৃপ্ত থাকেন এবং তাদের মধ্যে অকারণে চিপস, বিস্কুট বা আইসক্রিমের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে, যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জার্মানির লুবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, দিনের শুরুতে বেশি খাবার গ্রহণ করলে বিপাক প্রক্রিয়ার কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়, যা ‘ডায়েট-ইনডিউসড থার্মোজেনেসিস’ (ডিআইটি) নামে পরিচিত। এই ডিআইটি হলো শরীর গরম রাখতে এবং খাদ্য হজম করতে যে পরিমাণ ক্যালরি ব্যয় হয় তার সংখ্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতের খাবারের চেয়ে প্রাতরাশে বেশি খাদ্য গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ডিআইটির মাত্রা দ্বিগুণ হয়।
‘জার্নাল অব ক্লিনিকাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি ১৬ জন পুরুষের উপর পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষকরা অবশ্য স্বীকার করেছেন, সকালে কম ক্যালরির খাবার গ্রহণ করলে দিনের বেলা ক্ষুধা বাড়তে পারে, বিশেষ করে মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রক্তে শর্করার পরিমাণ এবং ইনসুলিনের ঘনত্ব সকালে খাবার গ্রহণের ফলে যেভাবে কমে, রাতের খাবারের পর তেমনটা হয় না। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা মনে করছেন, দিনের শুরুতে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া অধিক সক্রিয় থাকে।
লুবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো বায়োলজিস্ট ড. জুলিয়ান রিখটার এই গবেষণাটিকে সকলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাতের ভারী খাবারের পরিবর্তে সকালে বেশি পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা স্থূলতা এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ওজন কমাতে আগ্রহী ব্যক্তিদের তাদের খাদ্যাভ্যাসে এই পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করা উচিত।