চৈত্র-বৈশাখের কাঠফাটা রোদে প্রাণ ওষ্ঠাগত। এই সময় শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা এবং জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচানোই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজার চলতি কোল্ড ড্রিঙ্কস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় সাময়িক তৃপ্তি দিলেও শরীরের জন্য তা মোটেও ভালো নয়। তাই প্রকৃতির ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। গরমে শরীরকে সতেজ ও চনমনে রাখতে আনারসের জুস বা শরবতের কোনো বিকল্প নেই। যারা সাধারণত আনারস খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না, তারাও এই বিশেষ রেসিপিটি চেখে দেখলে প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেন।
আনারসের গুণাগুণ ও উপকারিতা:
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ এবং ফাইবার। এছাড়াও এতে থাকা ‘ব্রোমেলিন’ এনজাইম হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে খনিজ বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে আনারস অত্যন্ত কার্যকরী। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
কীভাবে বানাবেন জিভে জল আনা আনারসের জুস?
যাঁরা আনারস পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য সাধারণ জুসের বদলে একটু ‘টুইস্ট’ যোগ করতে পারেন।
উপকরণ: ১টি মাঝারি মাপের পাকা আনারস (টুকরো করা), বিট লবণ, গোলমরিচ গুঁড়ো, সামান্য পুদিনা পাতা, লেবুর রস এবং স্বাদমতো মধু বা চিনি।
পদ্ধতি: প্রথমে মিক্সারে আনারসের টুকরোগুলো দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর একটি ছাঁকুনি দিয়ে রস ছেঁকে নিন। এবার তাতে এক চিমটি বিট লবণ, সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো এবং লেবুর রস মেশান। ওপরে কয়েকটা সতেজ পুদিনা পাতা কুচি ছড়িয়ে দিন।
স্পেশাল টাচ: পরিবেশনের সময় গ্লাসের কিনারায় একটু লঙ্কার গুঁড়ো ও লবণের প্রলেপ লাগিয়ে দিলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই চটপটে স্বাদ আনারস অপছন্দ করা মানুষদেরও মন জয় করে নেবে।
সতর্কতা:
খালি পেটে খুব বেশি আনারসের রস না খাওয়াই ভালো, এতে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও যাঁদের আনারসে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁরা অবশ্যই সচেতন থাকবেন। তবে রোদে পুড়ে বাড়ি ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা আনারসের শরবত আপনাকে মুহূর্তে নতুন প্রাণশক্তি জোগাবে।