আজকালকের ব্যস্ত জীবন বা দ্রুত ওজন কমানোর নেশায় অনেকেই দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকেন। কেউ ব্রেকফাস্ট বাদ দিচ্ছেন, তো কেউ কাজের চাপে লাঞ্চ করছেন বিকেলে। সাময়িকভাবে এটি সাধারণ মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর কুপ্রভাব ফেলে। জেনে নিন এর নেপথ্যের ভয়াবহ বিপদগুলো:
১. মেটাবলিজম বা বিপাক হার কমে যাওয়া:
যখন আপনি দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকেন, শরীর তখন ‘স্টারভেশন মোড’-এ চলে যায়। ফলে ক্যালরি পোড়ানোর গতি কমে যায় এবং পরবর্তীকালে অল্প খেলেও দ্রুত ওজন বাড়তে শুরু করে।
২. অ্যাসিডিটি ও আলসারের ঝুঁকি:
খালি পেটে পাকস্থলীতে ক্রমাগত অ্যাসিড নিঃসৃত হতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ খাবার না পেলে সেই অ্যাসিড পাকস্থলীর দেওয়ালে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা থেকে মারাত্মক গ্যাস, বুক জ্বালা এবং পরবর্তী সময়ে আলসার হতে পারে।
৩. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস:
মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি হলো গ্লুকোজ। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় (Hypoglycemia), যার ফলে মাথা ঘোরা, কাজে মন না বসা, খিটখিটে মেজাজ এবং প্রচণ্ড মানসিক অবসাদ দেখা দেয়।
৪. পেশি ক্ষয় ও দুর্বলতা:
খাবার থেকে শক্তি না পেলে শরীর তখন পেশি ভেঙে শক্তি সংগ্রহ করতে শুরু করে। এতে শরীরে মেদ না কমলেও পেশি শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং শরীর ভেতর থেকে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে।
৫. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা হরমোনের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। এটি পিরিয়ডের অনিয়ম থেকে শুরু করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
সুস্থ থাকতে প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। ওজন কমাতে চাইলে অভুক্ত না থেকে বরং কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন।
মনে রাখবেন: না খেয়ে থাকা মানেই ডায়েট নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক খাবার খাওয়াই হলো সুস্থতার চাবিকাঠি।