কান দিয়ে জল পড়া বা সামান্য ব্যথা—একে আমরা অনেকেই ‘সাধারণ সমস্যা’ মনে করে দিনের পর দিন এড়িয়ে চলি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কানের গঠনগত অবস্থানের কারণে এখানকার যেকোনো গভীর সংক্রমণ সরাসরি মস্তিষ্কে আঘাত করতে পারে। কানের পর্দা ছিদ্র হওয়া বা দীর্ঘদিনের ইনফেকশন যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয়, তবে তা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
কিভাবে কানের সমস্যা মস্তিষ্কের বিপদ ডেকে আনে? জেনে নিন বিস্তারিত:
১. সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পথ
আমাদের কানের মধ্যবর্তী অংশ (Middle Ear) এবং মস্তিষ্কের মাঝখানে থাকে খুব পাতলা হাড়ের একটি স্তর। কানের ইনফেকশন যদি দীর্ঘমেয়াদী হয় (Chronic Otitis Media), তবে সেই জীবাণু হাড়ের দেয়াল ভেদ করে বা রক্তনালীর মাধ্যমে মস্তিষ্কের আবরণে (Meninges) পৌঁছে যায়।
২. মেনিনজাইটিস ও ব্রেন অ্যাবসেস
কানের জীবাণু যখন মস্তিষ্কে ছড়ায়, তখন তা ‘মেনিনজাইটিস’ (মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ) তৈরি করতে পারে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, এটি মস্তিষ্কের ভেতরে পুজ বা ‘ব্রেন অ্যাবসেস’ তৈরি করতে পারে, যা সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
৩. অটোজেনিক জটিলতার লক্ষণ
কানের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়ালে শরীরে কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা দেয়:
অসহ্য মাথাব্যথা যা সাধারণ ওষুধে কমে না।
হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর এবং বমি বমি ভাব।
ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া (Stiffness)।
মানসিক ভারসাম্য হারানো বা ভুল বকা।
শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হওয়া।
৪. কানের পর্দা ছিদ্র হওয়ার ঝুঁকি
যাঁদের কান দিয়ে পুঁজ পড়ে বা পর্দা ছিদ্র আছে, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্নান করার সময় কানে জল ঢুকলে সংক্রমণ আরও গভীরে চলে যায়। অনেকেই কান পরিষ্কার করতে কাঠি বা পালক ব্যবহার করেন, যা সংক্রমণকে আরও ত্বরান্বিত করে।
বাঁচতে কী করবেন? (সতর্কতা)
কান শুকনো রাখুন: স্নান করার সময় কানে তুলো দিয়ে রাখুন যাতে জল না ঢোকে।
কান খোঁচাবেন না: কোনো ধরনের কাঠি বা পিন দিয়ে কান পরিষ্কারের চেষ্টা করবেন না।
চিকিৎসা নিন: কান দিয়ে পুঁজ পড়লে বা ব্যথা হলে সাথে সাথে ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স: চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে তার পুরো কোর্স শেষ করুন, মাঝপথে ছেড়ে দিলে জীবাণু আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।





