সময়ের সাথে সাথে আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে এসেছে আমূল পরিবর্তন। যার ফলে কেবল বয়স্করাই নন, বরং কুড়ি-ত্রিশের তরুণরাও এখন হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণ ছাড়াও অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলই হার্টের অসুখের প্রধান কারণ। তবে সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব।
আপনার হার্টকে আজীবন সতেজ রাখতে যে নিয়মগুলো অবশ্যই পালন করবেন:
১. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ঘাম ঝরানো
শরীরচর্চা মানেই জিম নয়। প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা (Brisk Walking), সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো হার্টের পেশিকে শক্তিশালী করে। এটি রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং ধমনিতে ব্লক হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
২. লবণের সাথে আড়ি, সবজির সাথে বন্ধুত্ব
পাতে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস আজই বর্জন করুন। অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপের কারণ, যা সরাসরি হার্টে চাপ সৃষ্টি করে। খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি, ফল এবং ওটস। মনে রাখবেন, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
দিনের শেষে ৬-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম হার্টের জন্য মহৌষধ। ঘুমের অভাব বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম অনুঘটক। প্রয়োজনে মেডিটেশন বা যোগব্যায়ামের সাহায্য নিন।
৪. ধূমপান ও মদ্যপানকে ‘না’ বলুন
ধূমপান কেবল ফুসফুসের ক্ষতি করে না, এটি রক্তনালীকে সংকুচিত করে দেয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাঁদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তাই হার্ট বাঁচাতে নেশামুক্ত জীবন বেছে নিন।
৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Check-up)
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ (High BP) এবং উচ্চ কোলেস্টেরল— এই তিনটি হলো হার্ট অ্যাটাকের ‘সাইলেন্ট পার্টনার’। বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল ও রক্তচাপ পরীক্ষা করান। যদি এই সমস্যাগুলো থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনে কোনো ঢিলেমি করবেন না।
জরুরি সংকেত চিনে নিন:
বুকের মাঝখানে চাপ ধরা ব্যথা, বাম হাত বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট— এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।





