হার্ট ফেইলিওর কেন হয়? আর যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন, জেনে নিন বিস্তারিত!

হার্ট ফেইলিওরের ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে থাকে, তবে এর অর্থ এই নয় যে হৃদয় পুরোপুরি থেমে গেছে। বরং, যখন হৃৎপিণ্ড শরীরের প্রয়োজনীয় রক্ত ও অক্সিজেন পর্যাপ্ত পরিমাণে পাম্প করতে পারে না, তখনই হার্ট ফেইলিওর হয়। হৃৎপিণ্ডের পেশি দুর্বল হওয়ার কারণেই মূলত এটি ঘটে থাকে। তবে আরও কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে, যা হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং একসময় হার্ট ফেইলিওরের কারণ হতে পারে।

হার্ট ফেইলিওর কেন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকিও বাড়ে। তবে বর্তমানে শুধু বয়স্করাই নন, কম বয়সীদের মধ্যেও এর ঝুঁকি বাড়ছে। এর পেছনের কিছু কারণ হলো:

উচ্চ রক্তচাপ: অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD): হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলো সরু হয়ে গেলে বা ব্লক হয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
হার্ট অ্যাটাক: হার্ট অ্যাটাক হলে হৃৎপিণ্ডের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়।
হার্টের জন্মগত ত্রুটি: কিছু মানুষের জন্মগতভাবেই হার্টে ত্রুটি থাকতে পারে।
হৃৎপিণ্ডের পেশিতে আঘাত: বিভিন্ন রোগের কারণে হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং পেশিতে আঘাত লাগতে পারে।
ফুসফুসের রোগ: ফুসফুসের কিছু রোগও হার্ট ফেইলিওরের কারণ হতে পারে।
স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও স্লিপ অ্যাপনিয়া: এই তিনটি শারীরিক অবস্থাও হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ায়।
হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ কী কী?
হার্ট ফেইলিওরের কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে উল্লেখ করা হলো। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

১. শ্বাসকষ্ট: বিশ্রামে থাকা অবস্থাতেও যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে তা হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ হতে পারে। কারণ, হৃৎপিণ্ড ফুসফুস থেকে রক্তের প্রবাহের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না।
২. হাত-পায়ের শক্তি কমে যাওয়া: হৃৎপিণ্ড সঠিকভাবে পাম্প না করলে মস্তিষ্ক শরীরের কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে রক্ত নিয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে সরবরাহ করে। ফলে সামান্য হাঁটলেও কষ্ট হয় ও মাথা ঘোরে।
৩. শ্বাসকষ্ট ও কাশি: কাশির সঙ্গে সাদা বা গোলাপি শ্লেষ্মা বের হওয়াও হার্ট ফেইলিওরের একটি লক্ষণ হতে পারে।
৪. শরীরে তরল জমা: হঠাৎ করে পা ফুলে যাওয়া, গোড়ালি ফোলা, পেট ফোলা বা ওজন বেড়ে যাওয়া হার্ট ফেইলিওরের আগাম লক্ষণ হতে পারে।
৫. বমি বমি ভাব: প্রায়শই বমি বমি ভাব অনুভব করাও একটি লক্ষণ।
৬. পেট ভরা অনুভব করা: সব সময় পেট ভরা অনুভব করাও একটি খারাপ লক্ষণ, কারণ এক্ষেত্রে আপনার পাচনতন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পাচ্ছে না।
৭. হৃৎপিণ্ডের দ্রুত স্পন্দন: যখন আপনার হৃদয় পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন হার্টবিট বেড়ে যায়। এটি হার্ট ফেইলিওরের একটি সতর্কতামূলক লক্ষণ।
৮. বিভ্রান্তি বা অলসতা: হার্ট ফেইলিওরের আগাম লক্ষণ হিসেবে বিভ্রান্তি বা অলসতা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন বিষয় ভুলে যেতে পারেন। রক্তের অভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ভালোভাবে কাজ না করলে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ প্রভাবিত হয়, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও হ্রাস করে।

হার্ট ফেইলিওর প্রতিরোধে করণীয়
হার্ট ফেইলিওর প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

ভালো খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চা: সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা নিশ্চিত করুন।
ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বর্জন করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খান।
কম-সোডিয়ামযুক্ত খাবার: আপনার ডায়েটে কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার রাখুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
পর্যাপ্ত জল পান: জল ও তরল খাবার খাওয়ার পরিমাণ বাড়ান।
স্ট্রেস কমান: মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন।
ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম গ্রহণ করুন।
এই বিষয়গুলো মেনে চললে হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আপনার কি হার্ট ফেইলিওর সম্পর্কিত অন্য কোনো প্রশ্ন আছে?