হঠাৎ পেটের ডানপাশে অস্বস্তি? অবহেলা করবেন না, হতে পারে গুরুতর কারণ!

হঠাৎ করে পেটের ডানপাশে অস্বস্তিকর ব্যথা অনুভব করছেন? ব্যথার তীব্রতা বেশি না হলেও বুঝতে পারছেন না ঠিক কী কারণে এমন হচ্ছে? এই ধরনের অভিজ্ঞতা অনেকেরই হতে পারে। তবে আমাদের অনেকেরই অজানা, পেটের ডানপাশের এই ব্যথা বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই ব্যথার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও, এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, পেটের ডান দিকে ব্যথা হলে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে।

পেটের ডানপাশে ব্যথা হওয়ার কিছু সম্ভাব্য কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. গ্যাসের সমস্যা: যদিও গ্যাসের কারণে সাধারণত পেটের বাঁ দিকে ব্যথা হয়, তবে চিকিৎসক ফিনকেলস্টন জানিয়েছেন, ডায়েটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে ব্রোকলি, ফুলকপি, মটরশুঁটির মতো খাবার খেলে পেটে অ্যাসিডিটি হতে পারে, যা ডান পাশেও ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

২. বদহজম: বদহজমের কারণেও পেটের ডান পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। বদহজম হলে প্রাথমিকভাবে পেটের উপরের অংশে ব্যথা হয় এবং পরবর্তীতে সেই ব্যথা ডান দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে।

৩. দ্রুত দৌড়ানো: খুব দ্রুত দৌড়ানোর সময় পেটের ডান দিকে ব্যথা হতে পারে। ফিনকেলস্টনের মতে, এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ানো বন্ধ করা উচিত। শ্বাসতন্ত্রকে চাপমুক্ত রাখতে বরং হালকা নড়াচড়া বা ব্যায়াম করা যেতে পারে।

৪. হার্নিয়া: জিমে ব্যায়াম করার সময় ভারী কিছু তোলার কারণে হার্নিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি পেটের ডান দিকে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

৫. অ্যাপেন্ডিসাইটিস: পেটের ডান দিকে ব্যথার একটি অন্যতম গুরুতর কারণ হলো অ্যাপেন্ডিসাইটিস। এই ব্যথা পেটের অন্য অংশে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ডান দিকে সরে আসে এবং তীব্র হতে থাকে। খেয়াল রাখুন বসতে কিংবা সোজা হয়ে শুতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। এই ব্যথাকে একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়, কারণ অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেলে তা জীবনহানিকর হতে পারে।

৬. ওভারিয়ান সিস্ট (নারীদের ক্ষেত্রে): নারীদের জরায়ুর উভয় পাশে ডিম্বাশয় (ওভারি) থাকে। অনেক সময় ডিম্বাশয়ে সিস্ট হওয়ার কারণেও পেটের ডান পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

করণীয়:

যদি আপনি উপরের লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি অনুভব করেন, তবে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পেটের ডান দিকের ব্যথাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গুরুতর কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।