স্তন ক্যানসারের ৯টি প্রাথমিক লক্ষণ! যা সব নারীর জানা জরুরি

স্কিন বা ত্বকের ক্যানসারের পরেই নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে স্তন ক্যানসার ফুসফুসের ক্যানসারকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (IARC) দ্বারা প্রকাশিত পরিসংখ্যানও একই তথ্য তুলে ধরেছিল, যেখানে স্তন ক্যানসারকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্ণায়ক ক্যানসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এই দুরারোগ্য ব্যাধি অনেকেরই দেরিতে শনাক্ত হয়। তবে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে প্রাথমিক পর্যায়েই স্তন ক্যানসার নির্ণয় করা সম্ভব। এজন্য প্রতিটি নারীরই স্তন ক্যানসারের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি:

১. স্তনে পিণ্ড: স্তন ক্যানসারের প্রথম ও সবচেয়ে সুস্পষ্ট লক্ষণ হলো স্তনে কোনো পিণ্ডের উপস্থিতি। এই পিণ্ড শক্ত, নরম, স্থির অথবা চলমানও হতে পারে। তবে এই পিণ্ড ক্যানসারের কারণ হবে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য দ্রুত পরীক্ষা করানো আবশ্যক।

২. স্তনে ব্যথা: ভুল অন্তর্বাস পরিধানের কারণে স্তনে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। এছাড়াও, বেশিরভাগ নারীই মাসিকের পূর্বে স্তনে ব্যথা বা কোমলতা অনুভব করেন। তবে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্তনে একটানা ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. দৃশ্যমান শিরা: স্তনের ত্বকের উপর দিয়ে যদি কোনো অস্বাভাবিক শিরা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, তাহলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এটিও স্তন ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

৪. স্তনবৃন্ত থেকে তরল নিঃসরণ: যদি কোনো নারী স্তন্যদান না করানো সত্ত্বেও তার স্তনবৃন্ত থেকে তরল বা কোনো ধরনের স্রাব নিঃসরণ হতে দেখেন, তাহলে এটি একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। এই লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৫. স্তনে লালচে ভাব: কোনো আঘাত বা অন্য কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই স্তনে লালচে ভাব দেখা দিলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি স্তন ক্যানসারের একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

৬. স্তনের ত্বকে গর্তভাব: স্তনের ত্বকে যদি কোনো নতুন গর্তভাব বা চামড়া কুঁচকে যাওয়া লক্ষ্য করেন, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এটিও ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা দিতে পারে।

৭. স্তনবৃন্ত ভেতরে ঢুকে যাওয়া: যদি স্তনের ভেতরের দিকে টিউমার বড় হতে শুরু করে, তাহলে স্তনবৃন্ত ত্বকের ভেতরের দিকে ঢুকে যেতে পারে (নিপল রিট্রাকশন)। এমন লক্ষণ দেখলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

৮. বগলে টিউমার: অনেকেই জানেন না যে স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে বগলে বা এর আশেপাশে ছোট টিউমার দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই ছোট টিউমারগুলিকে সাধারণ ভেবে ভুল করা হয়, তবে এর থেকেও ব্রেস্ট ক্যানসার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৯. স্তনের আকার পরিবর্তন: হঠাৎ করেই যদি দেখেন কোনো একটি বা উভয় স্তনের আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে, তাহলে দ্রুত ব্রেস্ট পরীক্ষা করানো উচিত।

এই ৯টি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার নির্ণয় এবং সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিন এবং নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করুন।