স্তনে ব্যথা মানেই ক্যান্সার নয়! জেনে নিন ৭টি সম্ভাব্য কারণ ও মুক্তির উপায়

অনেক নারীই স্তনে ব্যথা অনুভব করলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মনে করেন এটি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ। তবে আশার কথা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্তনে ব্যথা এই রোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। স্তনে আঘাত লাগা বা অন্য কোনো সাধারণ কারণেও এই ব্যথা হতে পারে। বিভিন্ন সময়ে অনেক নারীই স্তনে ব্যথা অনুভব করেন এবং এর পেছনের কারণও বহুবিধ হতে পারে। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে স্তনে ব্যথা হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এটি হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই ঘটে থাকে, যা চিন্তার কোনো কারণ নয়।
তবে স্তনে ব্যথা নিয়ে অনেক নারীর মনেই উদ্বেগ থাকে এবং তারা এর কারণ সম্পর্কে অবগত নন। তাই জেনে নিন স্তনে ব্যথা হওয়ার ৭টি সম্ভাব্য কারণ এবং এই অস্বস্তি থেকে মুক্তির কিছু উপায়:
১. দেহে হরমোন পরিবর্তন:
কৈশোরে মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হওয়ার সময় স্তনে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও, অনেক সময় পিরিয়ড হওয়ার আগেও স্তনে ব্যথা হয়। পিরিয়ডের আগে ও পরে শরীরে হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তনের কারণেই এই ব্যথা হয়ে থাকে। পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে সাধারণত এই ব্যথা আর থাকে না, তাই ভয়ের কিছু নেই।
২. গর্ভকালীন সময়:
গর্ভধারণের সময় অনেক নারী স্তনে ব্যথা অনুভব করেন। সাধারণত গর্ভবতী নারীর প্রথম তিন মাস চলাকালীন সময়ে স্তনে ব্যথা শুরু হয়, কারণ তখন স্তনের আকার বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, দেহে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যাওয়া এবং হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় স্তনের উপর দিয়ে নীল শিরাও দেখা যেতে পারে।
৩. স্তন প্রদাহ (Mastitis):
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাসের আক্রমণে নারীদের স্তনে প্রদাহজনিত সমস্যা হতে পারে, যার ফলে স্তনে ব্যথা অনুভূত হয়। এই সময়ে সতর্ক থাকা জরুরি এবং এই ব্যথার সাথে জ্বরও আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
৪. স্তনের মধ্যে সিস্ট (Breast Cyst):
অনেক সময় স্তনের অভ্যন্তরে তরল জাতীয় পদার্থপূর্ণ এক ধরনের সিস্ট তৈরি হয়, যাকে ফাইব্রোসিস্টিক ব্রেস্ট ডিজিজও বলা হয়। স্তনের গ্রন্থি যখন বৃদ্ধি পায়, তখন এই সিস্টের দেখা দিতে পারে এবং এর কারণেই স্তনে ব্যথা হয়। সিস্টের আকার বড় হলে বুকে হাত দিয়েও তা অনুভব করা যেতে পারে। সিস্ট অনুভূত হলে দ্রুত স্তন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময়:
কোনো নারী মা হওয়ার পর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও স্তনে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে স্তন পরিষ্কার রাখা জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাসের সংক্রমণ এড়ানো যায়। অপরিষ্কার স্তনের কারণে ব্যথাসহ অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৬. স্তনে ঘা (Nipple Sore):
অনেক সময় স্তনের বোঁটায় ঘা হয়ে থাকে, যার কারণে স্তনে ব্যথা অনুভূত হয়। মূলত স্তনের বোঁটায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় ভাইরাসের আক্রমণের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। এই ধরনের সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
৭. স্তনে ক্যান্সার (Breast Cancer):
বুকে ব্যথার একটি মারাত্মক কারণ হলো স্তন ক্যান্সার। তবে স্তনে ব্যথা সাধারণত তখনই অনুভূত হয় যখন ক্যান্সার দীর্ঘদিনের হয়। স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথাহীন পিণ্ড বা অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই বুকে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উপরের কারণগুলোতে খুব স্বাভাবিকভাবেই স্তনে ব্যথা হতে পারে। তবে কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনলে স্তনে ব্যথা হওয়ার প্রবণতা কমানো যেতে পারে। জেনে নিন স্তন ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায়:
১. আপনার স্তনের সঠিক মাপ অনুযায়ী ব্রা পরিধান করুন। ছোট বা অতিরিক্ত টাইট ব্রা এড়িয়ে চলুন।
২. স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন যাতে চর্বির পরিমাণ কম এবং পুষ্টির পরিমাণ বেশি থাকে।
৩. দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এর ফলে আপনার দেহের হরমোনের পরিবর্তনের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
৪. ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১ (থায়ামিন) এবং ভিটামিন ই দেহের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তাই এই উপাদান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।
মনে রাখবেন, স্তনে ব্যথা হলেই আতঙ্কিত না হয়ে এর কারণ অনুসন্ধান করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।