সোরিয়াসিস: ত্বকের এই ক্রনিক রোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়!

ত্বকে নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন কারণে এসব চর্মরোগ হয়ে থাকে। তবে অনেকেই প্রথমদিকে এসব রোগকে উপেক্ষা করেন, যা হতে পারে মারাত্মক বিপদের কারণ। তেমনই এক চর্মরোগ হলো ‘সোরিয়াসিস’। ত্বকের এই সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা কিন্তু কম নয়। এই রোগ ক্রনিক, তাই এর থেকে একবারে রেহাই মেলে না; বারবার এই ব্যাধি ঘুরে-ফিরে আসে।

যেকোনো বয়সের মানুষের শরীরে এই চর্মরোগটি হতে পারে। এই রোগ হলে ত্বকে লাল রঙা এক স্তর তৈরি হয়। ছোট ছোট ফুসকুড়িতে ভরে যায় ত্বকের বিভিন্ন স্থান। ফুসকুড়িতে চুলকানি ও ব্যথার পাশাপাশি ফোলাও হতে পারে। সাধারণত কনুইয়ের বাইরের অংশে এবং হাঁটুতে সোরিয়াসিস বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে এই রোগ দেখা দেয়।

সোরিয়াসিসের উপসর্গ হিসেবে শুরুতে বুকে, পিঠে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লালচে র্যাশ দেখা দেয়। পরবর্তীতে ত্বকের ওই অংশগুলো পুরু হয়ে আঁশ ওঠার মতো ত্বকের খোসা উঠতে শুরু করে। শুরুতে চিকিৎসা না করলে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। যদিও এই রোগের জন্য তেমন কোনো বিশেষ চিকিৎসা নেই, তবে নিয়মের মধ্যে থাকলে এর লক্ষণগুলো কম প্রকাশ পায়।

সোরিয়াসিস থেকে বাঁচার ঘরোয়া কিছু উপায়:
সঠিক পরিপূরক ও খাদ্য: ন্যাশনাল সোরিয়াসিস ফাউন্ডেশনের মতে, ফিশ অয়েল, ভিটামিন ডি, দুধ, অ্যালোভেরা, আঙুরের মতো ডায়েটারি পরিপূরক সোরিয়াসিসকে মূল থেকে নির্মূল করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া, মাছ, বাদাম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। এতে প্রদাহ কমবে।

ত্বককে আর্দ্র রাখুন: সোরিয়াসিস থেকে বাঁচতে ত্বক অবশ্যই আর্দ্র রাখতে হবে। এজন্য বাড়ি বা অফিসে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

রাসায়নিক ও সুগন্ধি পরিহার: সুগন্ধযুক্ত সাবান এবং সুগন্ধী ব্যবহার করবেন না। এসবে উপস্থিত রাসায়নিক এবং রং আপনার ত্বকে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা এই জাতীয় সাবান এড়িয়ে চলুন।

স্নানের জল: গরম জল ত্বক চুলকানির কারণ হতে পারে। তাই রক সল্ট, দুধ বা জলপাইয়ের তেল মিশিয়ে হালকা গরম জল ত্বকে ব্যবহার করুন। এতে সোরিয়াসিসে চুলকানি কমাতে সাহায্য করবে।

হলুদের ব্যবহার: যেকোনো চর্মরোগের দাওয়াই হিসেবে হলুদ কার্যকরী। এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বকের প্রদাহ দূর করে।

জলপাই তেল: সোরিয়াসিস হলে ত্বকে জলপাই তেল ব্যবহার করলে উপকার মিলবে।

মানসিক চাপ কমান: সোরিয়াসিস থাকলে মানসিক চাপ কমাতে হবে। এজন্য যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের মতো অনুশীলনগুলো খুব কার্যকর প্রমাণিত হবে।

ধূমপান ত্যাগ: ধূমপানে আসক্ত থাকলে দ্রুত তা ত্যাগ করা উচিত। ধূমপান এবং তামাক সেবন থেকে সোরিয়াসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই ঘরোয়া উপায়গুলো সোরিয়াসিসের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে, যেহেতু এটি একটি ক্রনিক রোগ, তাই কোনো রকম সমস্যায় অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।