অল্প বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ? এই ড্রাই ফ্রুটসগুলোই আপনার সমাধান!

আজকাল অল্পবয়সি মানুষের মধ্যে রক্তচাপের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অপেক্ষাকৃত ২০ থেকে ৪০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যেও এটি দেখা যাচ্ছে। দেশের অল্পবয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৩.৫ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তাদের মধ্যে ১৭ শতাংশ পুরুষ আর ৯ শতাংশ নারী।
অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে তরুণ প্রজন্মের কিছু বদভ্যাস দায়ী। অতি লবণযুক্ত ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, ওজন বৃদ্ধি ও কায়িক শ্রমের অভাব অল্পবয়সী মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই তরুণদের ৬৮ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ নেই, যার ফলে রোগটি নীরবে শরীরে ক্ষতি করে চলেছে।
রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া মানেই নানা রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকা। তাই রক্তচাপের মাত্রা বশে রাখা জরুরি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই নানা নিয়ম মেনে চলেন। জানেন কি, কিছু ড্রাই ফ্রুটস রক্তচাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে? উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যেসব ড্রাই ফ্রুটস খেতে পারবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক:
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারী ড্রাই ফ্রুটস:
১. কাঠবাদাম: কাঠবাদামে এমন সব উপাদান রয়েছে যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ‘জার্নাল অফ নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত গবেষণা জানাচ্ছে, কাঠবাদাম রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও কাঠবাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা রক্ত চলাচল সচল রাখে।
২. আখরোট: হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আখরোট ভীষণ কার্যকরী। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। রক্তচাপ বেড়ে গেলে আখরোট ওষুধের মতো কাজ করে। আখরোটে থাকা ‘আলফা লিনোলেনিক’ অ্যাসিড প্রদাহজনিত সমস্যার সমাধান করে।
৩. কিশমিশ: ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের কিশমিশ বারণ হলেও, উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা চাইলে কিশমিশ খেতে পারেন। ‘আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি’-র সমীক্ষা জানাচ্ছে, দিনে তিনবার কিশমিশ খেলে রক্তচাপের মাত্রা কমবে।
৪. পেস্তা: পেস্তা দারুণ একটি ড্রাই ফ্রুটস। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ হিসেবে এর জুড়ি মেলা ভার। পেস্তা ‘সিস্টোলিক’ উচ্চ রক্তচাপ কমায়। পেস্তায় রয়েছে পটাশিয়াম যা হৃদয় সুরক্ষিত রাখে।
এই ড্রাই ফ্রুটসগুলো আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। তবে, মনে রাখবেন, যেকোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।