সতর্ক হন! দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলেই বাড়ছে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কায়িক পরিশ্রমের বদলে মাথা খাটানোর কাজ বেড়েছে। আজকাল বেশিরভাগ অফিসেই টানা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করতে হয়, যেখানে দিনের প্রায় ৮-১১ ঘণ্টা চেয়ারেই বসে থাকতে হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, একটানা এভাবে বসে থাকা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এপিডেমিওলজিক্যাল স্টাডিজ অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্করা দিনে ছয় থেকে ১২ ঘণ্টা বসে থাকেন, যার বেশিরভাগই দাঁড়ানো এবং হাঁটা ছাড়া। এখন আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময় এই প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে, যখন অনেক মানুষই শারীরিকভাবে আরও অলস হয়ে পড়েছেন। যারা হোম অফিস করেছেন এবং যাদের ছোট বাচ্চাদের অনলাইন ক্লাস ছিল, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।

একটি বাস্তবসম্মত গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ডেস্কে বসে কাজ করলে পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বেই। আর যদি এই অভ্যাস দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে দেখা দিতে পারে ডায়াবেটিস এবং হাই কোলেস্টেরলের মতো মারাত্মক রোগ। অনেক সময় শারীরিকভাবে সুস্থ দেখতে ব্যক্তিও টানা বসে থাকার কারণে এসব রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আধা ঘণ্টা টানা বসে থাকার ক্ষতি মাত্র তিন মিনিটের হাঁটাতেই কাটিয়ে দেওয়া যায়। কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙা, কিংবা কয়েকটি লাফ দেওয়ার মতো, মাত্র ১৫ স্টেপ হাঁটাও শরীরের জন্য একইরকম উপকারী। বরং এই হাঁটা আলাদাভাবে কারও চোখে পড়বে না, অর্থাৎ অফিসে ডেস্কে বসে কাজের ফাঁকে আপনার এই এক্সারসাইজ অন্য সহকর্মীদের নজরেও আসবে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, জেগে থেকেও শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। যখন আমরা বসে থাকি, তখন আমাদের পায়ের মাংসপেশী সচল থাকে না এবং এজন্য ন্যূনতম ক্যালোরি প্রয়োজন হয়, যা আসে আমাদের রক্ত থেকে। তবে শারীরিক চলাচল না থাকায় পেশীগুলো কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে না। তাই রক্তে কোলেস্টেরল এবং সুগার ভাঙতে পারে না, বরং জমতে থাকে। পেশী থেকে নির্গত জৈব রাসায়নিক পদার্থগুলোই মূলত কোলেস্টেরল এবং রক্তের ফ্যাটি অ্যাসিড ভাঙতে সাহায্য করে।

সুতরাং, সুস্থ থাকতে হলে প্রতি আধাঘণ্টা পর কাজের জায়গা থেকে উঠুন, একটু হাঁটুন, ওয়াশরুমে যান, চা-কফি পান করুন। মিনিট তিনেক পর আবার কাজে বসুন। এর জন্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন অথবা আপনার ফোন কিংবা ল্যাপটপে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে পারেন, যা আপনাকে নির্দিষ্ট