শুধু নারীরা নন, পুরুষদেরও রয়েছে স্তন ক্যানসারের মারাত্মক ঝুঁকি! অবহেলা করলেই বড় বিপদ।

স্তন ক্যানসার বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে নারী স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ধারণা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির পরেও সাধারণ মানুষের মনে এই গভীর ভুল ধারণাটি আজও গেঁথে রয়েছে যে, স্তন ক্যানসার কেবল নারীদেরই একটি রোগ। কিন্তু আধুনিক ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক গবেষণা এবং পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন ও উদ্বেগজনক এক চিত্র তুলে ধরছে। চিকিৎসকদের মতে, জিনগত গঠন এবং শারীরিক পার্থক্যের কারণে নারীদের তুলনায় আক্রান্তের হার কম হলেও, পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বাস্তব এবং সমানভাবে মারাত্মক।
পুরুষদের স্তনেও সীমিত পরিমাণে স্তন টিস্যু বা নালিকা উপস্থিত থাকে, যা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা মিউটেশনের কারণে ক্যানসার কোষে রূপান্তরিত হতে পারে। সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও, কম বয়সিদের মধ্যেও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো বুকের ত্বকের নিচে বা বোঁটার আশেপাশে কোনো শক্ত, ব্যথাহীন পিণ্ড বা স্ফীতি অনুভব করা। এছাড়াও বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, সেখান থেকে রক্তরস বা তরল নিঃসৃত হওয়া কিংবা ত্বকে কোনো ধরনের ক্ষত তৈরি হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
অনেকেই পুরুষদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ চর্বি বা ফ্যাট জমে যাওয়ার সমস্যা ভেবে ভুল করেন, যার ফলে রোগ নির্ণয় অনেকটাই দেরিতে হয়। ক্যানসার যখন শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। পারিবারিক ক্যানসারের ইতিহাস, অতিরিক্ত ওজন, জকৃৎ সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার মতো বিষয়গুলো পুরুষদের ক্ষেত্রে এই মারণ রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সময়মতো সচেতন না হলে পুরুষদের ক্ষেত্রেও এই রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ট্যাবু বা সামাজিক ছুঁৎমার্গ কাটিয়ে উঠে লিঙ্গ নির্বিশেষে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। নিজের শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা পিণ্ড লক্ষ্য করার সঙ্গে সঙ্গেই লজ্জাবোধ না করে বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব, তাই সতর্কতা ও সঠিক জ্ঞানই পারে একটি জীবন বাঁচাতে।