অফিসে কোন দিন মিটিং, বাজার থেকে কী কী আনতে হবে, প্রিয়জনের দেওয়া কথা রাখা—এসব মনে রাখাটা বেশ কঠিন। ভুলে যাওয়ার সমস্যা বা ভুলের জন্য কাজের ক্ষতি কেউই চায় না। একটা সময় মনে করা হতো বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
তবে আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। ভুলে যাওয়ার সমস্যা এখন কম বয়সেই শুরু হচ্ছে। ছোটখাটো তালিকা থেকে শুরু করে দরকারি জিনিস কোথায় রেখেছেন, তা মনে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। জীবনে চলতে গেলে মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখা খুবই জরুরি।
কিন্তু আমাদের রোজকার কিছু অভ্যাস নীরবে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে। দিনের পর দিন এই অভ্যাসগুলো মস্তিষ্কের ক্ষতি করে চলেছে। জেনে নিন কোন কোন অভ্যাসে রাশ টানলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে:
১) অতিরিক্ত অন্ধকারে থাকা: অতিরিক্ত অন্ধকারে থাকার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই অভ্যাস মনে বিষণ্ণতা তৈরি করে, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। শীতপ্রধান দেশে আত্মহত্যার হার বেশি হওয়ার এটি একটি কারণ। প্রাকৃতিক আলোতে থাকলে মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করে। তাই দিনের বেলা পর্যাপ্ত আলোতে থাকার চেষ্টা করুন।
২) উচ্চশব্দে গান শোনা: কানে বড় হেডফোন গুঁজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উচ্চস্বরে গান শোনা মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে। টানা ৩০ মিনিট অতি উচ্চমাত্রার শব্দে থাকলে শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণরূপে লোপ পেতে পারে। শ্রবণশক্তির ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও কমতে পারে এবং ব্রেনের টিস্যু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হেডফোনের ব্যবহার কমান এবং কম ভলিউমে গান শুনুন।
৩) বেশি বেশি স্ক্রিন টাইম: অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ মস্তিষ্কের জন্য নানা দিক থেকে ক্ষতিকর। অফিসে দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা এবং বাড়ি ফিরেও মোবাইলে ওয়েব সিরিজ দেখা—এভাবে দিনের বেশির ভাগ সময় পর্দার সামনে কাটানো চোখের ক্ষতির পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও কমিয়ে দেয়। স্ক্রিন টাইম যত বেশি, অন্যদের সঙ্গে কথা বলা এবং অন্যান্য কাজে মনোযোগ দেওয়া তত কম হয়, ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সামাজিক মেলামেশা এবং অন্যান্য শখের প্রতি মনোযোগ দিন।
৪) অতিরিক্ত একা থাকা: বর্তমানে ফেসবুকে হাজার হাজার বন্ধু থাকলেও ব্যক্তিগত সমস্যা ভাগ করে নেওয়ার মতো বন্ধুর অভাব অনেকেরই। অনেকে সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে চান না এবং পারিবারিক বা অফিসের পার্টিও এড়িয়ে চলেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের উপর। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা কাছের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, তারা অন্যদের তুলনায় বেশি হাসিখুশি ও কর্মদক্ষ হন এবং তাদের স্মৃতিশক্তিও অন্যদের তুলনায় ভালো থাকে। তাই সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখুন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান।
৫) অতিরিক্ত চিনি খাওয়া: অতিরিক্ত চিনি খাওয়া মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। বার্গার, ভাজাভুজি, আলুর চিপস বা নরম পানীয়ের মতো খাবার স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে। অন্যদিকে, সবুজ শাকসবজি, ফল ও বাদামজাতীয় খাবার মস্তিষ্কের ক্ষতি রোধ করে। তাই চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ত্যাগ করে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন।
ধীরে ধীরে এই অভ্যাসগুলোতে পরিবর্তন আনলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়বে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে। সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য সচেতন জীবনযাপন অপরিহার্য।