রাতে পর্যাপ্ত ঘুমিয়েও কেন ক্লান্তি দূর হয় না? জেনে নিন কারণ!

রাতে দীর্ঘক্ষণ ঘুমোনোর পরেও সকালে উঠে অনেকেরই ক্লান্তি যেন কাটতে চায় না। ঘুম ভাঙলেও আলস্য ও ঝিমুনি ভাব ঘিরে থাকে। মনে হয় যেন শরীর চলছে না, বিছানা ছাড়তেও ইচ্ছে করছে না। রাতভর ঘুমিয়েও কেন এমন অনুভূতি হয়? এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই কারণগুলো।

দেরিতে ঘুমানো
রাতে আপনি কখন ঘুমাচ্ছেন, সেই সময়টা খুবই জরুরি। অনেকেই তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়েন ঠিকই, কিন্তু ঘুমিয়ে পড়েন না। রাত জেগে গল্পের বই পড়া, সিরিজ দেখা বা অন্য কোনো বিনোদনে মগ্ন থাকেন। এভাবে কখন যে অনেক রাত হয়ে যায়, তা খেয়াল থাকে না। অনেক রাতে ঘুমানোর ফলে ঘুমের ঘাটতি তৈরি হয়, যার কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠলে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক।

অ্যালার্ম সেট করার ভুল পদ্ধতি
অনেকেরই অভ্যাস থাকে ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ঘণ্টাখানেক আগে থেকে অ্যালার্ম দিয়ে রাখা। প্রতি ৫ মিনিট অন্তর অ্যালার্ম বাজলে অনেকের ঘুম ভাঙে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ঘুম থেকে ওঠার এই পদ্ধতি মস্তিষ্কের উপর বারবার চাপ সৃষ্টি করে। গভীর ঘুম বারবার ভেঙে গেলে সমস্যা হতে পারে। তাই যখন ঘুম থেকে উঠতে চাইছেন, তার মাত্র ১৫ মিনিট আগে অ্যালার্ম দিন।

পাশে কারো নাক ডাকার অভ্যাস
আপনার পাশে যিনি ঘুমিয়েছিলেন, তার যদি নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, সে ক্ষেত্রেও আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। নাক ডাকার শব্দে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া অসম্ভব নয়। ঘুমের মাঝে এই ধরনের ব্যাঘাত ঘুমের মান কমিয়ে দেয়, যার ফলে সকালে ঘুম ভাঙলে শরীর ম্যাজম্যাজ করে এবং ক্লান্তি আসে।

শোয়ার আগে অ্যালকোহল বা কফি সেবন
ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল বা কফি খেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার প্রবল আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসকরা বেশি রাতে কফি এবং অ্যালকোহল পান করতে নিষেধ করেন। মদ্যপান করলে সাময়িকভাবে ঘুমের একটা অনুভূতি হলেও, এটি আসলে আপনাকে গভীর ঘুমের স্তর থেকে দূরে রাখে। কফিতে থাকা ক্যাফেইনও একই কাজ করে; এটি মস্তিষ্কের উদ্দীপনা বাড়িয়ে সক্রিয় রাখে বলে সহজে ঘুম আসতে চায় না। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি কাটতেই চায় না।

যদি এই কারণগুলো আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে সেগুলোতে পরিবর্তন এনে আপনার ঘুমের মান উন্নত করতে পারেন এবং সকালে সতেজ অনুভব করতে পারেন।