রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া বর্তমানে এক অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু বিপজ্জনক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘হাইপারইউরিসেমিয়া’ বলা হয়। সাধারণত শরীর প্রস্রাবের মাধ্যমে বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেয়, কিন্তু যখন কিডনি এটি ঠিকমতো ফিল্টার করতে পারে না, তখনই রক্তে এর মাত্রা বাড়তে থাকে। সময়মতো ধরা না পড়লে এটি কিডনিতে পাথর এবং গেঁটে বাত বা ‘গাউট’-এর মতো যন্ত্রণদায়ক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
গবেষকদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে সবথেকে বড় সংকেত দেয় পায়ের বুড়ো আঙুল। হঠাৎ করে আঙুল ফুলে লাল হয়ে যাওয়া এবং অসহ্য যন্ত্রণা হওয়া এর প্রধান লক্ষণ। এছাড়া গোড়ালি, হাঁটু এবং হাতের কব্জির জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা ও শক্ত ভাব অনুভব হতে পারে। যদি দেখেন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্ট নাড়াতে কষ্ট হচ্ছে বা সেখানে জ্বালাপোড়া করছে, তবে তা ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে ছোট ছোট পিণ্ড বা মাংসের দলা দেখা দেয়, যা মূলত অ্যাসিডের ক্রিস্টাল জমা হওয়ার ফল। প্রস্রাবের রং পরিবর্তন বা পিঠের নিচের দিকে ব্যথা হওয়া কিডনিতে পাথর জমার ইঙ্গিত দেয়। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন রেড মিট বা সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে চলুন।