বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা, ৩০ পেরোতেই টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি!

অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অসাবধানতার কারণে বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একবার এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। দুঃখজনকভাবে, ডায়াবেটিস সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে ধরা পড়ে না এবং রক্ত পরীক্ষা না করানো পর্যন্ত এর উপস্থিতি টের পাওয়া কঠিন হয়।

তবে যেকোনো রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে কিছু না কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়। ঠিক একইভাবে, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলেও শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুসারে, সাধারণত ৪০ বছর পেরোলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ৩০ বছর পার হতে না হতেই অনেকে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, ১০-১৪ বছর বয়সীরা মূলত টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে উপসর্গগুলোকে চেনা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে আগাম সতর্কতা নেওয়া অসম্ভব।

ডায়াবেটিসের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
বার বার প্রস্রাবের চাপ: স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিবার প্রস্রাবের প্রয়োজন অনুভব করা, বিশেষত রাতে।
তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে আসা: অতিরিক্ত তৃষ্ণা এবং ঘন ঘন জল পান করার প্রবণতা।
ওজন কমে যাওয়া: কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়া: দৃষ্টিশক্তির ঝাপসা বা দুর্বল হয়ে আসা।
হাত-পায়ে ঝিঁঝি ধরা বা অবশ হয়ে যাওয়া: হাত-পায়ে অসাড়তা বা কাঁটা কাঁটা অনুভূতি।
ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া: শরীরের কোনো ক্ষত বা আঘাত শুকাতে অস্বাভাবিক বেশি সময় লাগা।
ত্বকে ডায়াবেটিসের লক্ষণ:
ডায়াবেটিসের কারণে ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো দেখা দিতে পারে। কিছুদিন পর এগুলো থেকে ত্বকে বিভিন্ন দাগও তৈরি হতে পারে। এগুলোর আকার গোলাকার বা ডিম্বাকৃতি হতে পারে এবং সাধারণত চোখের পাতা, ঘাড় বা হাতে এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। যদিও এই লক্ষণ পুরুষদের চেয়ে নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং স্থূলতা থাকলে এ ধরনের উপসর্গ বেশি প্রকাশিত হয়।

এমনকি ত্বকে কোনো কারণ ছাড়াই ফোসকা দেখা দিতে পারে, যা অনেকেই অবহেলা করেন। ত্বকে এই ধরনের সমস্যাগুলো দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো লক্ষণগুলো চিনতে পারলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব।