প্রি-ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসের পূর্বাবস্থা! এই লক্ষণগুলি চিনতে পারলে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব

বর্তমানে ঘরে ঘরে বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। ছোট থেকে বড়, প্রায় সকলেই এখন এই সমস্যায় ভুগছেন। ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। শরীরে ইনসুলিন তৈরি না হওয়া বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে যে কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন।
সাধারণত ডায়াবেটিস দুই ধরনের হয় – টাইপ ১ এবং টাইপ ২। ছোটবেলায় কারও ডায়াবেটিস হলে তা টাইপ ১ এবং প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।
তবে প্রি-ডায়াবেটিস সম্পর্কে অনেকেরই তেমন ধারণা নেই। এটি আসলে ডায়াবেটিস হওয়ার পূর্ববর্তী অবস্থা। এই সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি থাকে না, যাকে সরাসরি ডায়াবেটিস বলা যায় না। তবে ভবিষ্যতে তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিসের এই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা তুলনামূলকভাবে সহজ। কিছু সতর্কতা অবলম্বন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রি-ডায়াবেটিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ:
ত্বকে ফুসকুড়ি: প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এটি পা থেকে শুরু করে কান পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে হতে পারে।
ডিজিটাল স্কেলেরোসিস: টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ত্বক শক্ত হয়ে যায়, বিশেষ করে কনুইয়ের ত্বক মোমের মতো অনুভূত হতে পারে।
ডায়াবেটিস ডার্মোপ্যাথি: এটিও টাইপ ১ ডায়াবেটিসের একটি লক্ষণ। ত্বকের বিভিন্ন অংশে বাদামি রঙের ছোপ বা দাগ দেখা যায়।
নোক্রোবায়োসিস লিপোইডিকা ডায়াবেটিকোরাম: পায়ের নীচের দিকে লাল বা হলদেটে ফুসকুড়ি বের হলে এটি প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।
ডায়াবেটিক ফুট: ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের ছোট ক্ষতও বিপজ্জনক হতে পারে। ডায়াবেটিক ফুটের ক্ষেত্রে পায়ে আলসার বা ক্ষত দেখা দেয়। পায়ে এমন কোনো ক্ষত দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বুলোসিস ডায়াবেটিকোরাম: হাত-পায়ে জল ফোস্কার মতো হওয়াকে বুলোসিস ডায়াবেটিকোরাম বলে। এক্ষেত্রে তেমন কোনো ব্যথা থাকে না। ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
অন্যান্য লক্ষণ: এছাড়াও চোখে কম দেখা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, বারবার জল তেষ্টা পাওয়া, অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ এবং কোনো ক্ষত সহজে না শুকানো ইত্যাদি লক্ষণও প্রি-ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দিতে পারে।
উপরের এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনোটি দেখা দিলে আর অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।