পুষ্টির অভাবে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে জরুরি সচেতনতা

বর্তমান জীবনযাত্রার অন্যতম বড় সমস্যা হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক। হৃদরোগের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে, এবং বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে এই বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর হার্ট অ্যাটাকের কারণেই অধিকাংশ মানুষ মারা যান।

যেকোনো বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ভাজাভুজি ও তেল-মশলাদার খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর বাইরে, শরীরে নির্দিষ্ট কিছু অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও হৃদরোগের অন্যতম কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ভিটামিনের অভাবে হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জেনে নিন কোন কোন পুষ্টি উপাদানের অভাব হৃদরোগের কারণ হতে পারে এবং সেগুলো কীভাবে পূরণ করবেন:

ম্যাগনেসিয়াম:
ম্যাগনেসিয়াম শারীরবৃত্তীয় নানা কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সাহায্য করে। শরীরে এই খনিজটির অভাব হলে অবসাদ, ক্লান্তি, প্রদাহ, মাইগ্রেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয় এবং হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যেতে পারে, যা চিকিৎসা পরিভাষায় ‘অ্যারিথমিয়া’ নামে পরিচিত। এই সব উপসর্গই হৃদরোগের অন্যতম কারণ। তাই ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন – পালং শাক, স্যালমন, অ্যাভোকাডো, কলা, টক দই, বিভিন্ন বাদাম এবং বীজ রোজকার ডায়েটে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পটাশিয়াম:
গবেষণা অনুযায়ী, পটাশিয়ামের অভাবে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা বা অ্যারিথমিয়া দেখা দিতে পারে। এটি হাড় ও পেশীর সমস্যারও কারণ। নিয়মিত আলু, কিডনি বিনস, কলা, অ্যাভোকাডো, দুধ, স্যালমন এবং টুনার মতো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অপরিহার্য। তবে খেয়াল রাখতে হবে, শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা অত্যধিক হয়ে গেলেও বিপদ হতে পারে, তাই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ভিটামিন ডি:
শরীরে অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ডিমের কুসুম, স্যালমন, টুনা এবং ফোর্টিফাইড কমলালেবুর রসের মতো খাবার ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা যেতে পারে।

ক্যালশিয়াম:
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ক্যালশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খনিজের অভাবে রক্তচাপ বাড়তে পারে, যার ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। দই, দুধ, ফোর্টিফাইড সিরিয়াল এবং সয়াবিনের মতো ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করুন।

ভিটামিন বি:
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফোলেট এবং ভিটামিন বি৬ থাকলে স্ট্রোক এবং হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। ভিটামিন বি১২ এবং বি৯-ও হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বি ভিটামিন শরীরে নতুন লাল রক্ত ​​কোষ তৈরিতে সহায়তা করে, যা সামগ্রিক হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। তবে, যেকোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা বা নতুন ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।