পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: হৃদরোগ থেকে ক্যান্সার, সচেতনতা জরুরি!

শারীরিক সুস্থতা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা রয়েছে, যা নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। হৃদরোগ থেকে শুরু করে প্রোস্টেট বা ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই পুরুষদের নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষভাবে সচেতন থাকা জরুরি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন বিষয়ে পুরুষদের বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে:
১. প্রোস্টেট ক্যান্সার:
প্রোস্টেট ক্যান্সার শুধুমাত্র পুরুষদেরই হয়ে থাকে এবং এটি বহু পুরুষের জীবন কেড়ে নেয়। এই ধরনের ক্যান্সার এড়াতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এখন থেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাদ্য প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
২. হৃদরোগ:
নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে নজর দিন:
ওজন নিয়ন্ত্রণ: সুস্থ ওজন বজায় রাখা হৃদরোগ প্রতিরোধের অন্যতম চাবিকাঠি।
ধূমপান ত্যাগ: ধূমপানের অভ্যাস সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন, কারণ এটি হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করান এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
মানসিক চাপ কমানো: মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা পছন্দের কাজ করে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
৩. ফুসফুসের ক্যান্সার:
প্রোস্টেট ক্যান্সারের মতোই ফুসফুসের ক্যান্সারেও অনেক পুরুষ আক্রান্ত হন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ পুরুষ ধূমপান করেন, যেখানে নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস মাত্র ৯ শতাংশের। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন পুরুষদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা অপরিহার্য। ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও এড়িয়ে চলুন।
৪. মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার প্রবণতা:
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, আত্মহত্যার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে অনেকটাই বেশি। তাই পুরুষদের তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত যোগব্যায়াম, ধ্যান (মেডিটেশন) এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের সাথে মনের কথা খুলে বলুন।