নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রতিরোধে যা জরুরি

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। পৃথিবীতে অসংখ্য প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম প্রধান। এই রোগ নীরবে শরীরের ক্ষতি করে বলে একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত এর লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশ পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে আগে থেকে সচেতন থাকা এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি।
কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ:
কিডনির সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এগুলি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
প্রস্রাবে সমস্যা: তুলনামূলকভাবে কম প্রস্রাব হওয়া বা রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ। কিডনির ফিল্টার নষ্ট হয়ে গেলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত বা ফেনা: সুস্থ কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবের সাথে রক্তকণিকা বের হয়ে যেতে পারে। কিডনিতে পাথর বা ইনফেকশন থাকলে এমনটা হয়। এছাড়া, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দিলে বুঝতে হবে প্রোটিন (অ্যালবুমিন) বেরিয়ে যাচ্ছে।
ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে বিষাক্ত পদার্থ জমতে শুরু করে, যার কারণে আপনি ক্লান্ত, দুর্বল এবং কাজে মনোযোগহীন অনুভব করতে পারেন। রক্তস্বল্পতাও এর একটি কারণ।
পায়ের গোড়ালি ও পাতা ফোলা: হঠাৎ করে পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে দেহে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে শরীরে জল জমে এবং পা ফুলে যায়।
খাবারে অরুচি ও বমি ভাব: ঘন ঘন খাবারে অরুচি বা বমি বমি ভাব অনুভব করাকে অবহেলা করবেন না। শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমার কারণে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া: কিডনি থেকে বেশি পরিমাণে প্রোটিন প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে গেলে চোখের চারপাশ ফুলে যায়। এই সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাংসপেশিতে টান ও খিঁচুনি: শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট উপাদানের ভারসাম্যহীনতার কারণে মাংসপেশিতে টান বা খিঁচুনি হতে পারে, যা কিডনি সমস্যার একটি লক্ষণ।
ত্বকে র্যাশ ও চুলকানি: রক্তে মিনারেল এবং পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে ত্বকে র্যাশ এবং চুলকানি হতে পারে। এটি কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করারই একটি ইঙ্গিত।
৬ বছর বয়সের পরেও রাতে বিছানায় প্রস্রাব করা।
প্রস্রাব করার সময় জ্বালা অনুভব করা এবং প্রস্রাবে রক্ত বা পুঁজের উপস্থিতি।
প্রস্রাব করার সময় কষ্ট হওয়া বা ফোঁটা ফোঁটা করে প্রস্রাব হওয়া।
প্রস্রাবের বেগ কমে আসা।
কখন কিডনি পরীক্ষা করাবেন?
কিডনির অনেক রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হয় না। দুর্ভাগ্যবশত, গুরুতর কিডনি রোগের লক্ষণ শুরুতে কম দেখা যায়। তাই যখনই কিডনি রোগের আশঙ্কা হয়, তখনই বিনা বিলম্বে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করা দরকার।
নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো জরুরি:
যে ব্যক্তির কিডনি রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
যিনি ডায়াবেটিস (মধুমেহ) রোগে আক্রান্ত।
যিনি উচ্চ-রক্তচাপে (High Blood Pressure) ভুগছেন।
যাদের পরিবারে বংশানুগতিক কিডনি রোগের ইতিহাস আছে।
যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা নিবারক (Pain Killer Tablets) ঔষধ সেবন করছেন।
যাদের রেচনতন্ত্রে জন্মগত রোগ আছে।
সাধারণ সুস্থ মানুষেরও ২-৫ বছর অন্তর নিয়মিত পরীক্ষা করানো দরকার।