নিয়মিত টক দই খেলেই সেরে যাবে উচ্চ রক্তচাপ: নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্য!

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রায় রক্তচাপ বাড়াটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু আক্রান্তই অনেক চেষ্টা করেও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তবে আর চিন্তা নেই! সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণা মুক্তির পথ দেখাচ্ছে। নতুন গবেষণা বলছে, নিয়মিত টক দই খেলেই নাকি কমবে ব্লাড প্রেশার।
গবেষণা কী বলছে?
আমেরিকার ইউনিভর্সিটি অব মেইনের একটি বিশেষ গবেষণায় বলা হয়েছে, টক দই খেলে ব্লাডপ্রেশার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা টক দইয়ের সঙ্গে ব্লাডপ্রেশার এবং হার্টের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করেছেন। গবেষকরা দেখেন, যারা নিয়মিত টক দই খেয়েছেন, তাদের রক্তচাপের তুলনায় যারা টক দই খান না, তাদের থেকে অনেকটাই কম। এই গবেষণার ফলাফল ইন্টারন্যাশনাল ডায়রি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি এবং টক দইয়ের ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ হাই ব্লাডপ্রেশারে আক্রান্ত। এই হাই ব্লাডপ্রেশার স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক রোগের আশঙ্কা বাড়ায়। আর এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তাই মূল সমস্যা, অর্থাৎ রক্তচাপকেই নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
এই গবেষণার অন্যতম গবেষক আলেকজান্ডার ওয়েড বলেন, “এই গবেষণা আমাদের সামনে চমকপ্রদ তথ্য এনে দিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, টক দই খেলে ব্লাডপ্রেশার কমে। এমনকি এর সঙ্গে কার্ডিওভাস্কুলার বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ডেইরি ফুডের মধ্যে টক দই পারে বিপি নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এরমধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম সহ বেশকিছু উপাদান ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।”
এছাড়াও, টক দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। প্রোবায়োটিক হলো ভালো ব্যাকটেরিয়া যা অন্ত্রে উপস্থিত খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে। তাই সকলের উচিত পরিমিত পরিমাণে টক দই খাওয়া।
কাদের উপর গবেষণাটি করা হয়?
এই গবেষণাটি ৯১৫ জন মানুষের উপর করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যে মানুষগুলি রোজ টক দই খেয়েছেন, তাদের রক্তচাপ তাদের তুলনায়, যারা টক দই খান না, তাদের থেকে অনেকটাই কম। তাই আর চিন্তা নেই, আজই টক দই খাওয়া শুরু করুন!
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, টক দইয়ের পরিবর্তে মিষ্টি দই কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। আর তা বাজার থেকে না কিনে বাড়িতে বানাতে পারলেই ভালো হয়, কারণ এতে চিনি বা অন্য কোনো অস্বাস্থ্যকর উপাদান মেশানোর সম্ভাবনা থাকে না।
আপনার কি মনে হয়, এই নতুন তথ্য উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একটি সহজ সমাধান নিয়ে আসবে?