একটা সময় ধারণা করা হতো ফুসফুসের ক্যানসার কেবল পুরুষদের বা ধূমপায়ীদের রোগ। কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বিপুল সংখ্যক নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই কোনোদিন ধূমপান করেননি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ক্যানসার শনাক্ত হতে দেরি হয়, কারণ এর লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা বা হাঁপানির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।
কেন নারীরা বেশি ঝুঁকিতে?
পরোক্ষ ধূমপান (Passive Smoking): পরিবারের অন্য সদস্যের ধূমপানের ধোঁয়া অজান্তেই কেড়ে নিচ্ছে নারীদের ফুসফুসের আয়ু।
পরিবেশ দূষণ ও রান্নার ধোঁয়া: দীর্ঘ সময় অবৈজ্ঞানিক উনুনে কাঠের জালে রান্না বা বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে বিষাক্ত কণা প্রবেশ করে।
জেনেটিক কারণ: বিশেষ করে ‘অ্যাডিনোকার্সিনোমা’ (Adenocarcinoma) নামক ফুসফুসের ক্যানসারটি নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা হরমোন বা বংশগত কারণেও হতে পারে।
যে লক্ষণগুলো দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন: ১. নাছোড়বান্দা কাশি: যদি কাশি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং কাশির ওষুধেও না কমে। ২. শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা: সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা বা হাসলে/কাশলে বুকে তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হওয়া। ৩. কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন: কোনো কারণ ছাড়াই গলা ভেঙে যাওয়া বা কর্কশ হয়ে যাওয়া। ৪. অত্যধিক ক্লান্তি ও ওজন হ্রাস: খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করেও হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া এবং সবসময় দুর্বল লাগা। ৫. কাশি দিয়ে রক্ত ওঠা: যদি কাশির সঙ্গে ছিটেফোঁটা রক্ত দেখা যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত পরীক্ষা করান।