নাক ডাকা কি কেবলই শব্দ নাকি মৃত্যুর পরোয়ানা? অবহেলা করলেই বড় বিপদ!

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সমস্যাটিকে আমরা অনেকেই খুব সাধারণ বা অভ্যস্ত একটি বিষয় বলে এড়িয়ে যাই। পাশের মানুষটির ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেও নাক ডাকা ব্যক্তির নিজের কাছে এটি তেমন কোনো গুরুত্ব পায় না। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নাক ডাকা কেবল একটি বিরক্তিকর অভ্যাস বা সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে না, এটি হতে পারে একাধিক জটিল ও প্রাণঘাতী শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ব্যাধি ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (OSA)-এর মূল উপসর্গ হলো এই নাক ডাকা।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী নাক ডাকার সমস্যাকে অবহেলা করলে তা শরীরের রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। শুধু তাই নয়, ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে পর্যাপ্ত অক্সিজেন মস্তিষ্কে পৌঁছাতে না পারায় স্মৃতিশক্তি হ্রাস, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা এবং মানসিক অবসাদও দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে ঘুমের মধ্যেই আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।

তবে সঠিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সচেতনতার মাধ্যমেই এই মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, চিত হয়ে না ঘুমিয়ে একপাশে কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে দূরে থাকা নাক ডাকার সমস্যা কমাতে দারুণ কার্যকরী। এছাড়া সমস্যা বেশি বাড়লে অবশ্যই একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ বা স্লিপ স্পেশালিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সচেতন না হলে এই সামান্য অভ্যাসের অবহেলাই হতে পারে আপনার জীবনের কাল। তাই আজই সাবধান হোন, সুস্থ থাকুন।